আজকাল ওয়েবডেস্ক: বুধবার রাত তখন ১১টা কানপুরের বেশিরভাগ মানুষ তখন ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু টিকওয়াপুর গ্রামে একদল পুলিশ ও কর্মী কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করে এমন এক কাজে ব্যস্ত ছিল, যা এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আনবে। গ্রামের টাওয়ারের কাছে মাটি খোঁড়ার সুবিধার্থে পুলিশি গাড়ির হেডলাইট এবং ফোনের টর্চ জ্বালানো ছিল। মাটির সাত ফুট নীচে পাওয়া গেল একটি কঙ্কাল। এই আবিষ্কার প্রেম, মোহ, ঘৃণা এবং বিশ্বাসঘাতকতার এক কাহিনী সামনে আনল।

পুলিশ জানিয়েছে, কঙ্কালটি সাত সন্তানের জননী ৪৫ বছর বয়সী রেশমার। অভিযোগ, প্রায় ১০ মাস আগে রেশমাকে তাঁর প্রেমিক গোরেলাল হত্যা করেছিলেন। তাঁর ছেলে বাবলু মায়ের খোঁজে গোরেলালকে প্রশ্ন করেছিলেন। গোরেলাল উত্তরে বলেছিলেন, “তোমার মা আর ফিরবে না”। বাবলু প্রথমে ভেবেছিল গোরেলাল মজা করছেন। কিন্তু এরপর তিনি উত্তর এড়িয়ে যেতে থাকেন। বাবলুর সন্দেহ হওয়ায় সে ২৯ ডিসেম্বর একটি নিখোঁজ ডায়েরি করে। গোরেলাল হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রেশমার স্বামী রামবাবু সাঙ্খওয়ার তিন বছর আগে মারা গিয়েছেন। দম্পতির চার ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর পর রেশমা তাঁর প্রতিবেশী গোরেলালের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এর কিছুদিন পরেই তিনি সন্তানদের ছেড়ে গোরেলালের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। মায়ের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে রেশমার সন্তানেরা তাঁর সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেন।

বাবলু রেশমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন না। তবে ২৯ নভেম্বর পরিবারের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। রেশমা আসেনি, আর এতেই বাবলুর সন্দেহ হয়। তিনি গোরেলালের বাড়িতে গিয়ে রেশমার কথা জিজ্ঞাসা করে। গোরেলাল উত্তরে বলেন, “তোমার মা আর কখনও ফিরে আসবেন না”। বাবলুর প্রশ্ন বারবার এড়িয়ে যান গোরেলাল। এতে সন্দেহ বাড়ে। তারপরেই পুলিশের দ্বারস্থ হন বাবলু। 

বাবলু অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ গোরেলালকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। জেরায় ভেঙে পড়ে তিনি পুলিশকে জানান, গত বছরের এপ্রিলে তাঁর এবং রেশমার মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। গোরেলাল রেশমাকে নিজের জীবন থেকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন এবং তাঁকে তাঁর আত্মীয়দের বাড়িতে চলে যেতে বলেছিল। রেশমা রাজি না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। এমনই এক ঝগড়ার সময় গোরেলাল রেশমাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। দু’দিন ধরে সে মৃতদেহটি বাড়িতে রেখেছিলেন এবং সেটি সরিয়ে ফেলার উপায় ভেবেছিলেন।

গোরেলাল পুলিশকে আরও জানিয়েছে, প্রথমে সে মৃতদেহটি একটি খালে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। এরপর সে গ্রামের একটি নির্জন জায়গায় মৃতদেহটি পুঁতে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় সে সেই জায়গার কথা বলে দেয়। পরে পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে। রেশমার হাড়গুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের ডেপুটি কমিশনার দীপেন্দ্র নাথ চৌধুরী জানিয়েছেন, বাবলু তাঁর মা রেশমার নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন এবং বলেছিলেন যে তিনি গোরেলাল এবং আরও দু’জনকে তাঁর মায়ের হত্যার জন্য সন্দেহ করছেন। দীপেন্দ্র বলেন, “পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্তকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গোরেলাল তাঁর অপরাধ স্বীকার করেছেন।” তিনি আরও বলেন, “আমরা কঙ্কালটি উদ্ধার করেছি এবং তাঁর আত্মীয়রা গয়না ও পোশাক দেখে সেটি শনাক্ত করেছেন। কঙ্কালটি এখন ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।”