আজকাল ওয়েবডেস্ক: জম্মু, কাশ্মীর ও লাদাখ জুড়ে দীর্ঘস্থায়ী শৈত্যপ্রবাহের কারণে জনজীবন প্রভাবিত হয়েছে। প্রবল শীতলতার ফলে প্রধান জলাধার, নদী এবং হ্রদগুলো বরফে ঢেকে গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল শ্রীনগরের বিখ্যাত ডাল লেক, যার একটি বড় অংশ বরফে জমে গিয়ে অনন্য দৃশ্যের সৃষ্টি করেছে।


শ্রীনগর চলতি শীতের সিজনের সবচেয়ে শীতল দিনের সামনে। তাপমাত্রা নেমে পৌঁছেছে মাইনাস ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা এই সিজনে সর্বনিম্ন। শ্রীনগর বিমানবন্দর এলাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন, যেখানে তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এই শীতে সর্বনিম্ন হিসেবে ধরা হয়েছে।


ভারতের মধ্যে লাদাখ বর্তমানে সবচেয়ে শীত রয়েছে। ড্রাসে তাপমাত্রা নেমে দাঁড়িয়েছে মাইনাস ২৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম এবং কঠোর আবহাওয়ার ইঙ্গিত বহন করে। ড্রাসকে বহু বছর ধরেই দেশের ‘মিনি সাইবেরিয়া’ বলা হয়। এর পরেই রয়েছে নিয়োমা, যেখানে মাইনাস ২১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস নথিভুক্ত হয়েছে। লেহ শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ১৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা পুরো অঞ্চল জুড়ে শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব স্পষ্ট করছে।


পর্যটন এলাকাগুলোতেও তীব্র শীতের প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত স্কি রিসোর্ট গুলমার্গে তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ৭.২ ডিগ্রি, আর দক্ষিণ কাশ্মীরের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র পাহালগাঁওতে নেমে গেছে মাইনাস ৭.৬ ডিগ্রিতে।  এছাড়া দক্ষিণ কাশ্মীরের শোপিয়ানে হয়েছে মাইনাস ৭.৭ ডিগ্রি, এবং পুলওয়ামায় ছিল মাইনাস ৭.৫ ডিগ্রি। কেন্দ্রীয় কাশ্মীরের সোনামার্গে তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।


আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ কাশ্মীরের উচ্চতর এলাকাগুলোতে হালকা তুষারপাত হতে পারে। আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত তাপমাত্রা আরও নিচে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর তাপমাত্রা ১–২ ডিগ্রি বাড়তে পারে বলে ধারণা।


এদিকে জম্মু অঞ্চলের সমতলভূমিতে মাঝারি মাত্রার কুয়াশা রয়েছে। বিচ্ছিন্ন স্থানে ঘন কুয়াশা আরও দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতি এখন চলবে। পর্যটকদের কাছে এটি একটি বিরাট প্রাপ্তি। সেখান থেকে তারা চুটিয়ে এই শীত উপভোগ করছে। এখানকার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছে তারা সিজনের জন্য তৈরি। এই সময় পর্যটকদের আনাগোনা বৃদ্ধির ফলে তারা এই সময় ভাল আয় করতে পারবেন।

&t=136s


প্রতি বছরেই এই সময় ডাল লেকের জল বরফ হয়ে যায়। তবে সেখানে অনেকটা সতর্ক রয়েছে প্রশাসন। তারা মনে করছে কোনও পর্যটকরা যেন আবেগের বশে ডাল লেকে নেমে না পড়েন সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। সেখান থেকে দেখতে হলে এই সময় কাশ্মীর এখন পর্যটকদের স্বর্গভূমি।