আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লিতে ধুন্ধুমার। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদের শান্তিপূর্ণ ধর্নার মাঝেই উপস্থিত পুলিশ। জোর করে সাংসদদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতেই শুরু হয় ধস্তাধস্তি।
বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, ইডি হানা দেয় তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে চুক্তিভুক্ত ভোটকৌশলী সংস্থা আইপ্যাকের অফিসে এবং আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে। ঘটনায় বৃহস্পতিতেই সরব হন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি। প্রতীক জৈনের বাড়িতে যান তিনি, যান আইপ্যাকের অফিসেও। দীর্ঘসময় সেখানেই ছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার থেকেই পথে তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার ফের পথে নামবেন খোদ দলের সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি।

অন্যদিকে, বাংলায় ইডি হানার প্রতিবাদে, শুক্রবার দিল্লিতে কর্তব্য পথের এক নম্বর গেট অর্থাৎ অমিত শাহের অফিসের সামনে ধর্না শুরু হয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদদের। প্ল্যাকার্ড-স্লোগানে উপস্থিত ডেরেক ও'ব্রায়েন, শতাব্দী রায়, মহুয়া মৈত্র, বাপি হালদার, সাকেত গোখলে, প্রতিমা মণ্ডল, কীর্তি আজাদ, শর্মিলা সরকার।

সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, 'বিজেপি জানে এবারও ওরা হারবে। তার জন্য যতরকম ভাবে ইডি-সিবিআই'দের ব্যবহার করছে, এতে বাংলার মানুষকে আরও বেশি অপমান করছে। মমতা ব্যানার্জি কাল প্রমাণ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস বাংলার মানুষের সঙ্গে রয়েছে।'
যদিও ধর্নার কিছুক্ষণ পরেই আচমকা হাজির হয় পুলিশ। শান্তিপূর্ণ ধর্নার মাঝেই টেনে হিঁচড়ে সরিয়ে দেওয়া হয় তৃণমূল সাংসদদের। শতাব্দী রায়, মহুয়া মৈত্রদের রীতিমতো টেনে হিঁচড়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। শতাব্দী রায়কে বারবার বলতে শোনা গিয়েছে, 'ধীরে, আসতে'। যদিও তাতে কর্ণপাত করেনি পুলিশ।
এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ইডি-র সক্রিয়তা নিয়ে শুরু থেকেই সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নিশানা করেছেন বিজেপিকে। আইপ্যাকের সল্টলেকের অফিস প্রাঙ্গনে দাঁড়িয়ে রণং দেহি মূর্তিতে নিশানা করে মমতা ব্যানার্জি বলেছিলেন, "বাংলায় জিততে চাইলে গণতন্ত্রের লড়াইয়ে রাজনৈতিক ভাবে লড়াই করুক বিজেপি। কিন্তু বিজেপি গণতন্ত্রের হত্যাকারী দল। ইডি পার্টির কাগজপত্র নিয়ে চলে গিয়েছে সব। ওরা ফোন নিয়েছে, হার্ডডিস্ক নিয়েছে, কাগজপত্র সব নিয়ে চলে গিয়েছে, টেবিল খালি পড়ে আছে। বোঝা যাচ্ছে, বিজেপি গণতন্ত্রের হত্যাকারী দল। ওরা গায়ের জোরে, ফোর্সফুলি এসব করেছে। ওরা জোর করে বাংলাকে দখল করতে চাইছে। বাংলার মানুষ এর উত্তর দেবে।"
এ দিন আগাগোড়াই মমতার আক্রমণের অভিমুখ ছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দিকে। সেই ধারা বজায় রইল তৃণমূলের অফিসিয়াল এক্স হ্য়ান্ডেলে। তৃণমূলের অভিযোগ, "যখন বিজেপি জানে যে তারা বাংলায় হারবে, তখন তারা ইডি-কে লেলিয়ে দেয়।"
