আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের রামপুর জেলায় চাঞ্চল্যকর এক খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হল এক যুবক। জানা গিয়েছে, কাকিমার প্রতি একতরফা প্রেম থেকে কাকাকে খুন করার অভিযোগ উঠেছে ওই যুবকের বিরুদ্ধে।
পুলিশ সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, নিজের কাকাকে খুন করে ঘটনাটিকে পথ দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা করেছিল অভিযুক্ত। তদন্তে উঠে এসেছে, কাকিমার প্রতি একতরফা প্রেম থেকেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ১৩ মার্চ রাতে রামপুরে রাস্তার ধারে এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পথ দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও, মৃতদেহের গলা ও মুখে আঘাতের চিহ্ন দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়।
পরে ময়নাতদন্তে নিশ্চিত হয়, শ্বাসরোধ করেই ওই ব্যক্তিকে খুন করা হয়েছে। তদন্তে পুলিশ মৃতের ভাগ্নে বীরেন্দ্র এবং তাঁর সহযোগী জিতেন্দ্র ওরফে ছোটুকে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনুরাগ সিং জানান, বীরেন্দ্র তাঁর কাকিমার প্রেমে পড়ে গিয়েছিল। তাঁর পথের কাঁটা হিসেবে কাকাকে সরাতেই খুন করার পরিকল্পনা করে।
পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত প্রথমে ওই ব্যক্তিকে মদ্যপ অবস্থায় নিয়ে আসে। তারপর মাফলার দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে দেখানোর জন্য মৃতদেহটি মোটরসাইকেলে বসিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ঘটনা হিসেবে সাজানো হয়।
রামপুর পুলিশ ইতিমধ্যেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে এবং আরও প্রমাণ সংগ্রহের পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রে আধ্যাত্মিকতার আড়ালে আরও এক ভণ্ড সাধুর লালসার শিকার হলেন এক মহিলা। নিজেকে মহাদেবের অবতার দাবি করে ৩৫ বছর বয়সী এক মহিলাকে মাদক খাইয়ে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগে উত্তাল মহারাষ্ট্রের পালঘর ও পুণে জেলা।
অভিযুক্ত ঋষিকেশ বৈদ্য (Rishikesh Vaidya) নিজেকে ভগবান শিব এবং নির্যাতিতাকে 'পার্বতী' হিসেবে পরিচয় দিয়ে এই জঘন্য অপরাধ ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালের শুরুতে। পুণের বাসিন্দা ওই মহিলার সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় ঋষিকেশের। নিজেকে 'আমচি ভাসাই' নামক এক সমাজকল্যাণমূলক সংস্থার কর্তা ও আধ্যাত্মিক গুরু হিসেবে পরিচয় দিয়ে ধীরে ধীরে মহিলার বিশ্বাস অর্জন করে সে।
অভিযোগ, গত ডিসেম্বর মাসে পুণের মাঞ্জারি এলাকায় একটি লজে মহিলাকে নিয়ে যায় ঋষিকেশ। সেখানে তাঁকে মাদক খাইয়ে অচৈতন্য অবস্থায় ধর্ষণ করা হয় এবং গোপনে আপত্তিকর ছবি তুলে রাখা হয়।
পরবর্তীকালে সেই ছবি দেখিয়েই শুরু হয় লাগাতার ব্ল্যাকমেলিং। ২০২৪ সালের মে মাসেও ভাসাইয়ের একটি হোটেলে ডেকে নিয়ে গিয়ে তাঁকে ফের যৌন হেনস্থার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ।
এতদিন লোকলজ্জার ভয়ে চুপ থাকলেও, সম্প্রতি নাসিকের প্রাক্তন নৌসেনা আধিকারিক তথা ভণ্ড সাধু অশোক খরাতের গ্রেপ্তারির খবর নির্যাতিতাকে সাহস জোগায়। সেই ঘটনার পর তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি একা নন, অনেকেই এই প্রতারণার শিকার।
এরপরই বুধবার ভাসাইয়ের মানিকপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। যেহেতু অপরাধটি মূলত পুণেতে ঘটেছিল, তাই পুলিশ একটি 'জিরো এফআইআর' দায়ের করে মামলাটি পুণের হাদাপসার থানায় পাঠিয়ে দিয়েছে।
















