আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘ বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ত্রিপুরায় ক্ষমতায় এসেছিল বিজেপি। তারপর থেকেই গোটা ত্রিপুরা জুড়ে 'ডবল ইঞ্জিন' সরকারের সুফল দেখা যাচ্ছে। আর সেই সাফল্যের পথ ধরেই মুখ্যমন্ত্রী পদে চার বছর পূর্ণ করলেন প্রফেসর, ড. মানিক সাহা। উন্নয়ন, সুশাসন এবং আইনের শাসনকে সামনে রেখে গত চার বছরে রাজ্যকে বহু যোজন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা নিজেই।
তিনি বলেন, "রাজ্যের মানুষের কল্যাণ ও সার্বিক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই কাজ করছে বর্তমান সরকার। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।" পাশাপাশি শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দিকেও সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে আমরা কাজ করছি। গত চার বছরে ত্রিপুরাকে আরও উন্নত ও স্বনির্ভর রাজ্যে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগিয়েছে। মানুষের আস্থা এবং সহযোগিতাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আগামী দিনেও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।”
ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, প্রশাসনের স্বচ্ছতা বজায় রাখা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ এবং সাধারণ মানুষের সমস্যার দ্রুত সমাধান করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকাতেও উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। এদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর চার বছরের কার্যকালকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দলীয় কর্মসূচি ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা রাজ্যের উন্নয়ন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন। একজন চিকিৎসক থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা মানিক সাহা স্বল্প সময়ের মধ্যেই শান্তিপূর্ণ প্রশাসন ও উন্নয়নমূলক কাজের জন্য মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।
২০২২ সালে তিনি ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি “শান্তি, উন্নয়ন ও সুশাসন”-কে অগ্রাধিকার দেন। তাঁর নেতৃত্বে রাজ্যে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হয় এবং সরকারি পরিষেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার তাঁর সরকার অনেকটাই সফল।
মানিক সাহার নেতৃত্বে ত্রিপুরায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। নতুন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, চিকিৎসা সরঞ্জাম বৃদ্ধি এবং চিকিৎসকদের নিয়োগের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও শক্তিশালী হয়েছে। একজন চিকিৎসক হওয়ায় তিনি স্বাস্থ্য খাতের সমস্যাগুলি গভীরভাবে বুঝতে পেরেছেন এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।শিক্ষাক্ষেত্রেও ডিজিটাল শিক্ষা, বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিভিন্ন সহায়তা প্রকল্প চালু করা হয়েছে।
তাঁর আমলে রাস্তা, সেতু এবং গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যা রাজ্যের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সহায়ক হয়েছে।
ত্রিপুরায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে মানিক সাহা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। অপরাধ দমনে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় তাঁর উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
মহিলা, কৃষক, যুবক এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিনি সমাজের সব স্তরের মানুষের উন্নয়নে কাজ করছেন। স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির দিকেও তাঁর সরকার গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে মানিক সাহার চার বছরের সময়কালে ত্রিপুরা সার্বিক অগ্রগতির দিকে এগিয়ে চলেছে।















