নিতাই দে, আগরতলা: ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক, সাংস্কৃতিক এবং জন-জনের যোগাযোগ আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ রিয়াজ হামিদুল্লাহ। 


বৃহস্পতিবার আগরতলার হাঁপানিয়ায় অনুষ্ঠিত 'ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ ২০২৬'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তার ফাঁকে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে তিনি বলেন, "ভারত ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই দুই দেশের অভিন্ন লক্ষ্য।" তাঁর মতে, বাণিজ্যিক সহযোগিতার পাশাপাশি সীমান্তের দুই প্রান্তের মানুষের আত্মিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক যোগাযোগও আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন।


হাইকমিশনার জানান, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নিয়মিত আলোচনা চলছে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেও সীমান্ত বাণিজ্য, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এই সংলাপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা বলেন, "ত্রিপুরায় শিল্প, অবকাঠামো ও উন্নয়নমূলক বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে।" তিনি জানান, সীমান্তবর্তী রাজ্য হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে ত্রিপুরার অর্থনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "মাছ, সিমেন্ট-সহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানি-রপ্তানি আরও সহজ ও নির্বিঘ্ন করতে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত বাণিজ্যের প্রসার এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও মতবিনিময় হয়েছে।"


তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারত ও বাংলাদেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হবে এবং ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে, যার সুফল দুই দেশের জনগণ ভোগ করবেন।