আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিহারের ট্রেনে এক তরুণীর দফায় দফায় হেনস্থার শিকার হওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গণপরিবহনে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অন্নু নামের ওই তরুণী ইনস্টাগ্রামে নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে জানিয়েছেন, পুরো যাত্রাপথ জুড়ে কীভাবে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছেন।

পোস্টে অন্নু দাবি করেন, তিনি সাধারণ বগিতে (General Coach) চড়ে সিওয়ান থেকে পাটলিপুত্র যাচ্ছিলেন। ট্রেনের ওপরের বার্থটিতে (Upper berth) উঠে তিনি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ট্রেনটি ছপরা স্টেশনে পৌঁছানোর পর একদল বয়স্ক লোক তার নিচের সিটটিতে এসে বসেন। অন্নু লিখেছেন, "আমি যখন ঘুমিয়ে ছিলাম, তখন তাদের মধ্যে একজন পেছন থেকে বারবার ওপরের দিকে হাত বাড়িয়ে আমাকে স্পর্শ করতে শুরু করে। আমি অত্যন্ত ভদ্রভাবে তাকে বলি— আঙ্কেল, দয়া করে হাতটা নিচে রাখুন। কিন্তু সে আমার কথা পাত্তাই দেয়নি। উল্টো সে এবার সামনের দিক থেকে আমাকে স্পর্শ করার চেষ্টা করতে থাকে, যা আমাকে চরম অস্বস্তিতে ফেলে দেয়।"

তরুণীর অভিযোগ, আপত্তি জানানোর পর ওই ব্যক্তি কিছুক্ষণ চুপ থাকলেও একটু পরেই আবার একই আচরণ শুরু করে। নিজেকে বাঁচাতে অন্নু বার্থের একবারে কোণায় সরে যান, কিন্তু তার দাবি অনুযায়ী— এবার অন্য আরেকজন বয়স্ক ব্যক্তিও ওপরের দিকে হাত বাড়িয়ে তাকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করে। বগিতে নিজেকে সম্পূর্ণ অনিরাপদ মনে করে তিনি সেটি ছেড়ে পাশের সাধারণ বগিতে চলে যান, কিন্তু সেটি ছিল উপচে পড়া ভিড়। উপায় না দেখে তিনি এসি কোচের বাইরের অংশে গিয়ে বসেন। কিন্তু সেখানেও যেন তার অস্বস্তির শেষ ছিল না।

অন্নু জানান, সেখানে আদর্শ পরীক্ষা কেন্দ্রের কর্মী পরিচয় দিয়ে এক যুবক তার কাছে আসে এবং কিছু টাকার বিনিময়ে তাকে পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার টোপ দেয়। অন্নু বারবার প্রত্যাখ্যান করা সত্ত্বেও ওই যুবক অনবরত তার ফোন নম্বর চাইতে থাকে। মেয়েটির কথায়, "সে জোর করতে করতে বলে— শুধু ভাই হিসেবে আমার নম্বরটা সেভ করে রাখো, কোনওদিন কাজে লাগতে পারে। আমি তাও রাজি হইনি। ভাগ্যিস দিঘওয়ারা স্টেশনে সে নেমে যায়, তখনই আমি একটু স্বস্তি পাই।"

পোস্টের শেষে ক্ষোভ ও হতাশা উগরে দিয়ে অন্নু প্রশ্ন তুলেছেন, "ট্রেনে যাতায়াতের সময় মেয়েরা কি আদৌ নিরাপদ? আজকের দিনে কিছু পুরুষের মানসিকতা কোন স্তরে নেমে গেছে?" এই ঘটনাটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে তুমুল প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই গণপরিবহনে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং রেল প্রশাসনের কাছে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রত্যেকেই ভয় বা অস্বস্তি ছাড়া নিরাপদে যাতায়াত করার অধিকার রাখে। আশা করি প্রশাসন এই বিষয়গুলোকে আরও গুরুত্ব সহকারে দেখবে।" অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, "এই ধরনের নিপীড়কেরা সাধারণত ভাবেন ভুক্তভোগী চুপ করে থাকবেন। এমন পরিস্থিতিতে এদের বিরুদ্ধে জোরে আওয়াজ তোলা দরকার, যাতে সবার সামনে এদের মুখোশ খুলে যায় এবং এরা জনসমক্ষে লজ্জিত হয়।" ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আরেক নেটিজেন লিখেছেন, "নারীদের নিরাপত্তা বোধহয় এখনও এক দূর আকাশের স্বপ্ন।"