আজকাল ওয়েবডেস্ক: অরুণ প্রকাশ, ভারতীয় নৌসেনার প্রাক্তন প্রধান। এবার তাঁর পরিচয় নিয়েও ধন্দ। তাঁকেও এসআইআর শুনানিতে ডাকা হয়েছে! অর্থাৎ নিজের পরিচয় প্রমাণের জন্য হাজিরা দিতে হবে অরুণ প্রকাশকে। এরপরই প্রাক্তন নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল অরুণ প্রকাশের পরামর্শ, এসআইআরের ফর্মে যদি সঠিক তথ্য প্রতিফলিত না হয় তবে তা বদল করা উচিত। 

এক্স-পোস্টে অ্যাডমিরাল অরুণ প্রকাশ বলেন, 'আমি নির্বাচন কমিশনকে জানাতে চাই যে (ক) যদি এসআইআর ফর্মগুলো প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে না পারে, তবে সেগুলো সংশোধন করা উচিত; (খ) বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) আমাদের বাড়িতে তিনবার এসেছিলেন এবং তিনি চাইলে অতিরিক্ত তথ্য চাইতে পারতেন; (গ) আমরা ৮২ এবং ৭৮ বছর বয়সী দম্পতি এবং আমাদের ১৮ কিলোমিটার দূরে দু'টি ভিন্ন তারিখে হাজিরার জন্য উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।'

এসআইআর প্রক্রিয়া ও শুনানি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। কমিশনের পদক্ষেপকে 'বড় ভুল' বলে মনে করছেন নিন্দুকরা। এবার কমিশনের 'তুঘলকি' সিদ্ধান্তের জেরে জেরবার অবস্থার মুখে পড়েছেন নৌসেনায় ৪০ বছরের বেশি কাজ করা অ্যাডমিরাল অরুণ প্রকাশও।

সোশ্যাল মিডিয়ার একজন ব্যবহারকারী পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশনের উচিত প্রাক্তন নৌপ্রধানের বাড়িতে একজন বুথ লেভেল অফিসারকে (বিএলও) পাঠিয়ে কাগজপত্র যাচাই করা। এর জবাবে অ্যাডমিরাল প্রকাশ বিনয়ের সঙ্গে কোনও আধিকারিককে বাড়িতে ডাকতে অস্বীকার করেছেন, কারণ তিনি কোনও "বিশেষ সুবিধা" চান না।

প্রাক্তন নৌসেনা প্রধান এক্স-এ করা পোস্টে বলেন, "২০ বছর আগে অবসর গ্রহণের পর থেকে আমি কোনও বিশেষ সুবিধা চাইনি এবং কখনও চাইবো না। আমি এবং আমার স্ত্রী প্রয়োজন অনুযায়ী এসআইআর ফর্ম পূরণ করেছিলাম এবং নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে গোয়া খসড়া ভোটার তালিকা ২০২৬-এ আমাদের নাম দেখে আমরা খুশি হয়েছিলাম। তবে, আমরা নির্বাচন কমিশনের নোটিশ মেনে চলব।"

১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় পাঞ্জাবে ভারতীয় বিমান বাহিনীর (আইএএফ) একটি যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রনের জন্য অ্যাডমিরাল অরুণ প্রকাশকে 'বীর চক্র' সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল। তাঁর কার্যকালে বৈদেশিক সামুদ্রিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে অনেক উদ্যোগ চালু করা হয়েছিল। অবসর গ্রহণের পর তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য এবং জাতীয় মেরিটাইম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দু'টি মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন।

বিহার নির্বাচনের আগে ২০২৫ সালের জুনে এসআইআর-এর সর্বশেষ পর্ব এবং পরবর্তী পর্যায়গুলো শুরু হয়েছিল। এর লক্ষ্য হল যোগ্য নাগরিকদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং অযোগ্যদের নাম বাদ দেওয়া। নির্বাচন কমিশনের যুক্তি, দ্রুত নগরায়ন, ঘন ঘন অভিবাসন, তরুণ নাগরিকদের ভোট দেওয়ার যোগ্য হয়ে ওঠা, মৃত্যুর খবর না জানানো এবং বিদেশি অবৈধ অভিবাসীদের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া-সহ বিভিন্ন কারণে এই সংশোধন জরুরি হয়ে পড়েছে। বুথ পর্যায়ের কর্মকর্তারা (বিএলও) কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ভোটারদের শনাক্ত করার জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা চালান। তারপর প্রকাশিত হয়েছে খসড়া ভোটার তালিকা। সেখানে যাদের নাম বাদ পড়েছে তাদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে।