আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমেরিকা, ইরান এবং ইজরায়েলের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রভাব এবার ভারতের একাধিক পরিবার ও বিয়েবাড়িতেও পড়তে শুরু করেছে।

মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলায় বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের তীব্র সঙ্কটে বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করাও কঠিন হয়ে উঠছে। আগামী ১৪ মার্চ বেলসারে একটি পরিবারের বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করা সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা গিয়েছে, বিয়ের কনে খুশবুর মেহেন্দি অনুষ্ঠান চললেও পরিবারের সদস্যদের মনে আনন্দের বদলে বাড়ছে উদ্বেগ। জানা গিয়েছে, যেখানে বিয়ে হচ্ছে সেখানকার ভেন্যুর মালিক সম্প্রতি কনের বাবাকে জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় রান্নার গ্যাস তারা সরবরাহ করতে পারবেন না।

পরিবারকে জানানো হয়েছে, হয় তাঁদের নিজেদেরই পাঁচটি কমার্শিয়াল সিলিন্ডার জোগাড় করতে হবে, নয়তো অতিথিদের জন্য খাবারের মেনু ও পরিবেশনের পরিমাণ কমাতে হবে।

বর্তমানে দেশজুড়ে জ্বালানি পরিস্থিতির মধ্যে অতিরিক্ত বুকিংয়ের কারণে এই সঙ্কট তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিয়ের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে এখন বেলসারে পরিবারকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। বিয়ের আয়োজন ছোট করে ফেলবেন, নাকি শহরজুড়ে সিলিন্ডারের খোঁজে মরিয়া চেষ্টা চালাবেন।

দেশজুড়ে বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহে সমস্যা দেখা দেওয়ায় নাসিকের আরও অনেক পরিবার একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। বিয়ের মরশুমের মধ্যেই এই পরিস্থিতি আমজনতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে কেন্দ্রীয় সরকার বুধবার জানিয়েছে, রান্নার গ্যাসের উৎপাদন ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং আতঙ্কে অতিরিক্ত বুকিং করার কোনও প্রয়োজন নেই।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কমার্শিয়াল এলপিজির ঘাটতিতে হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ হওয়ার খবর সামনে আসার পর এই আশ্বাস দিয়েছে সরকার। বর্তমানে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য এলপিজি সরবরাহকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

জ্বালানি সঙ্কটের জেরে একের পর এক হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ হতে শুরু করেছে। এর ফলে নড়েচড়ে বসল কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে বাজারে অতিরিক্ত বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার ছাড়া হচ্ছে। তবে কারা এই সিলিন্ডার পাবেন, সেই উপভোক্তা বাছাইয়ের দায়িত্ব বর্তেছে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলির ওপর।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, রান্নার গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে রাজ্যগুলিকে বিকল্প হিসেবে আরও ৪০ হাজার কিলোলিটার কেরোসিন বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র।

মূল সমস্যা লুকিয়ে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে। ভারত তার প্রয়োজনের প্রায় ৮৫ শতাংশ এলপিজি আমদানি করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে।

কিন্তু যুদ্ধের জেরে ওই এলাকায় জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জোগানে বড়সড় টান পড়েছে। ফলে সময়মতো সিলিন্ডার পৌঁছোচ্ছে না ভারতের বাজারে।