আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘদিনের দ্রাবিড় দলগুলির রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা হল। অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে অভিষেক করেই থালাপতি বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে নতুন সরকারের পথচলা শুরু করেছেন।
এদিন শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি তাঁর মন্ত্রিসভার প্রথম তালিকা প্রকাশ করেন। এই তালিকায় রয়েছেন ২৯ বছরের এক তরুণ বিধায়ক, চিকিৎসক, দন্তচিকিৎসক, প্রাক্তন আইআরএস আধিকারিক-সহ আরও সাতজন নেতা।
প্রথম দফার মন্ত্রিসভায় শুধুমাত্র তামিলাগা ভেত্ত্রি কাজাগমের নেতাদেরই জায়গা হয়েছে। কোনও কংগ্রেস নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। একনজরে দেখে নেওয়া যাক কোন কোন নেতারা এদিন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন।
এন আনন্দ: বিজয় রাজনৈতিক দল গঠনের অনেক আগেই তাঁর ফ্যান ক্লাব সংগঠনের সভাপতি ছিলেন এন আনন্দ। দল গঠনের সময় তিনি সাংগঠনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। পরবর্তীতে তিনি টিভিকে-র প্রথম সাধারণ সম্পাদক হন এবং এখনও সেই পদে রয়েছেন। দলের অন্যতম প্রধান মুখপাত্র হিসেবেও উঠে এসেছেন তিনি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিলেন, টিভিকে-র নেতা তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হবেন। নির্বাচনে চেন্নাইয়ের থিয়াগারায়ানগর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ডিএমকে প্রার্থী রাজা আনবাজাগনকে ৫১,৬৩২ ভোটে পরাজিত করেন।
আধব অর্জুনা: ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার প্রাক্তন জাতীয় স্তরের বাস্কেটবল খেলোয়াড় আধব অর্জুনা একজন রাজনৈতিক কৌশলবিদ, সমাজসেবী এবং ক্রীড়া প্রশাসক। গত নির্বাচনে তিনি এম কে স্ট্যালিনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ডিএমকের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি চেন্নাইয়ের ভিল্লিভাক্কম কেন্দ্র থেকে জয়ী হন। টিভিকে-তে অর্জুনা নির্বাচনী প্রচার পরিচালনার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। দলীয় সভাপতি বিজয় এবং সাধারণ সম্পাদক এন আনন্দের পর তিনিই দলের সর্বোচ্চ পদাধিকারী। তিনি বর্তমানে বাস্কেটবল ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার সভাপতিও।
ডাঃ কে জি অরুণরাজ: চিকিৎসক ও প্রাক্তন আইআরএস আধিকারিক ডাঃ কে জি অরুণরাজ টিভিকে-র নীতি ও প্রচার বিষয়ক সাধারণ সম্পাদক। ২০২৬ সালের নির্বাচনে নমাক্কল জেলার তিরুচেঙ্গোডু কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন।
এস কীর্তনা: ২৯ বছর বয়সি অভিনেত্রী ও টিভিকে বিধায়ক এস কীর্তনা সিভাকাসি কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে বিজয়ের মন্ত্রিসভায় সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন।
ডাঃ টি কে প্রভু: টিভিকে-র অন্যতম বিশিষ্ট নেতা এবং পেশায় দন্ত চিকিৎসক ডাঃ টি কে প্রভু কারাইকুডি কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন।
সেনগোট্টাইয়ান: অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগম (এআইএডিএমকে)-এর প্রবীণতম নেতাদের অন্যতম সেনগোট্টাইয়ান গত বছর দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর বিজয়ের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে চমক সৃষ্টি করেন।
পি ভেঙ্কটরামন: প্রথমবারের বিধায়ক পি ভেঙ্কটরামানন টিভিকে-র কোষাধ্যক্ষ এবং পেশায় আইনজীবী। চেন্নাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ মাইলাপোর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন তিনি। সক্রিয় রাজনীতিতে নতুন হলেও ২০০০ সাল থেকে বিজয়ের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করায় দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
নির্মল কুমার: টিভিকে-র তথ্যপ্রযুক্তি ও সোশ্যাল মিডিয়া শাখার ডেপুটি সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার মাদুরাইয়ের থিরুপ্পারাঙ্কুন্দ্রম কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন।















