আজকাল ওয়েবডেস্ক: দলের শোচনীয় হারে অগ্নিগর্ভ আরজেডি-র অন্দর। ছারখার অবস্থা লালু প্রসাদের পরিবারের। মেয়ে রোহিণী সরাসরি তোপ দেগেছেন ভাই তেজস্বীর বিরুদ্ধে। রাজনীতি ও পরিবার ছেড়েছেন তিনি। আরজেডি-তে একদা লালু ঘনিষ্ঠরাও দলের প্রধানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও জয়ী বিধায়করা তেজস্বীকেই বিধানসভার অন্দরে দনলেতা হিসাবে মেনে নিয়েছেন। কিন্তু, পরিস্থিতি জটিল। এই অবস্থায় তাই বিহার বিধানসভায় আর বিরোধী দলনেতা হতে রাজি ছিলেন না তেজস্বী। কিন্তু, বাবা লালু প্রসাদের জোরাজুরিতে আর নিজের অবস্থানে অনড় থাকতে পারলেন না তিনি। শেষমেষ বিরোদী দলনেতা হতে রাজি হয়েছেন তেজস্বী যাদব।
৩৬ বছর বয়সী তেজস্বী গতকাল একটি পর্যালোচনা সভায় বলেছিলেন যে, তিনি এখন একজন বিধায়ক হিসেবে কাজ করতে চান এবং বিরোধী নেতার ভূমিকা গ্রহণ করতে রাজি হননি। তিনি এই নির্বাচনে আরজেডির পরাজয়ের দায়ভার নিয়েছেন। বিহারের প্রধান বিরোধী দল, ২০২০ সালের নির্বাচনে একক বৃহত্তম দল ছিল, এবার মাত্র ২৫টি আসন জিতেছে, যা ২০২০ সালের তুলনায় ৫০টি কম।
তেজস্বীর বিরোধী নেতার ভূমিকা ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল দলের বৈঠকে। লালু যাদব জোর দিয়েছিলেন যে তাঁকে অবশ্যই সংসদে দলের নেতৃত্ব চালিয়ে যেতে হবে।
তেজস্বী আরও বলেন যে, তাঁর বাবা, একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালু যাদবই আরজেডি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সূত্রের খবর অনুসারে, "আমি তাঁর নির্দেশে দলের কাজকর্ম পরিচালনা করছি। এই নির্বাচনে আমি অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি।" বৈঠকে উপস্থিত দলের সিনিয়র নেতারা তরুণ নেতাকে সমর্থন করেছেন এবং বলেছেন যে তারা তাঁর পাশে আছেন।
তেজস্বী যাদব সঞ্জয় যাদবের পক্ষে বলেছেন
বৈঠকে তেজস্বী যাদব তাঁর সহযোগী এবং আরজেডির রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় যাদবের পক্ষে কথা বলেছেন। আরজেডির পারিবারিক নাটকের মধ্যে সঞ্জয় যাদবের নাম উঠে এসেছে এবং তেজস্বীর বোন রোহিণী আচার্য তাঁকে পরিবার থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। সভায় তেজস্বী বলেন, আরজেডির খারাপ ফলাফলের জন্য সঞ্জয় যাদবকে টার্গেট করা ভুল এবং এর জন্য তিনি দায়ী নন।
জানা গিয়েছে, সঞ্জয় যাদব তেজস্বী যাদবের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগীদের মধ্যে একজন। প্রচার কৌশল তৈরি এবং দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা-সহ আরজেডির নির্বাচনী প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। সঞ্জয় যাদবের প্রভাব এতটাই যে, যে কেউ তেজস্বী যাদবের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তাকে অবশ্যই তাঁর কাছ থেকে যেতে হবে। এর আগে, তেজস্বী যাদবের বড় ভাই (বর্তমানে ত্যাজ্যপুত্র) তেজপ্রতাপ যাদব বলেছিলেন যে, সঞ্জয় যাদব তাঁকে তাঁর ছোট ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে দেননি।
রোহিমীর অভিযোগ নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য না করলেও তেজস্বী লালু যাদব বলেছেন, "এটা একটা পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং পরিবারের মধ্যেই সমাধান করা হবে। বিষয়টিতে হস্তক্ষেপের জন্য আমি এখনও আছি।"
