আজকাল ওয়েবডেস্ক: তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই বড় পদক্ষেপ করলেন জোসেফ বিজয়। রাজ্যের মন্দির, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বাসস্ট্যান্ডের ৫০০ মিটারের মধ্যে থাকা মোট ৭১৭টি সরকারি মদের দোকান বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
নির্বাচনী প্রচারে ‘মাদকমুক্ত তামিলনাড়ু’-র এই প্রসঙ্গে বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম অর্থাৎ টিভিকে। এই সিদ্ধান্তকে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের প্রথম বড় পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরপরই জারি হওয়া নির্দেশে তামিলনাড়ু স্টেট মার্কেটিং কর্পোরেশন (TASMAC)-কে রাজ্যের মোট ৪,৭৬৫টি মদের দোকানের সমীক্ষা করতে বলা হয়।
সেই সমীক্ষায় দেখা যায়, ৭১৭টি দোকান নিষিদ্ধ এলাকার মধ্যে পড়ছে। এর মধ্যে ২৭৬টি উপাসনাস্থলের কাছে, ১৮৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে এবং ২৫৫টি বাসস্ট্যান্ডের আশেপাশে অবস্থিত।
আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে এই সবকটি দোকান বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সাধারণ মানুষের কল্যাণের কথা মাথায় রেখেই মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
তবে এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের রাজস্বে বড় প্রভাব পড়তে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। কারণ, মদের বিক্রি হওয়া রাজস্ব তামিলনাড়ু সরকারের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস।
অতীতে রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কায় বৃহৎ পরিসরে মদের দোকান বন্ধ করতে অনীহা দেখিয়েছিল আগের সরকারগুলি। ফলে, এক ধাক্কায় প্রায় ১৫ শতাংশ মদের দোকান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
উল্লেখ্য, টাসম্যাক-কে ঘিরে সম্প্রতি বিতর্কও তৈরি হয়েছে। অর্থপাচারের অভিযোগে গত বছর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তামিলনাড়ুর বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালায়। অভিযোগ ছিল, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় টাসম্যাক এবং সংশ্লিষ্ট কিছু সংস্থার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় সোমবার দেখা করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের সঙ্গে।
অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা বিজয় সম্প্রতি শপথ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে। যা তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের ডিএমকে-এআইএডিএমকে দ্বৈরথে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চেন্নাইয়ের আলওয়ারপেট এলাকায় স্ট্যালিনের বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাতে যান বিজয়। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান এম কে স্ট্যালিন এবং উদয়নিধি স্ট্যালিন। দুই নেতাকে করমর্দন ও আলিঙ্গন করতে দেখা যায়।
মিডিয়ায় প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, কালো স্যুট পরিহিত বিজয় হাতজোড় করে স্ট্যালিনকে অভিবাদন জানান। পাল্টা একইভাবে শুভেচ্ছা জানান ডিএমকে প্রধানও।
দুই নেতার বৈঠকে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে নির্বাচনে জয়ের পর এই প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন বিজয় ও স্ট্যালিন।
কংগ্রেস, সিপিআই সহ একাধিক ছোট দলের সমর্থনে সরকার গঠন করেছেন বিজয়। ৪ মে ফল ঘোষণার পর তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ জটিল হয়ে উঠেছিল। এমনও জল্পনা চলছিল যে সরকার গঠনের জন্য ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-ও হাত মেলাতে পারে বিজয়ের সঙ্গে।
এর আগেই বিজয়কে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন স্ট্যালিন। তবে নতুন সরকারকে একাধিক পরামর্শও দেন তিনি। রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতির জন্য আগের সরকারের উপর দায় চাপানোর বদলে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।















