আগে মনে করা হত, হার্ট অ্যাটাক শুধু বয়স্কদের সমস্যা। কিন্তু এখন ৩০–৩৫ বছর বয়সি অনেক মানুষও হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
2
10
চিকিৎসকদের মতে, এর পিছনে শুধু জিনগত কারণ নয়, আমাদের প্রতিদিনের কিছু খারাপ অভ্যাসও বড় ভূমিকা নিচ্ছে।
3
10
সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হল, এই অভ্যাসগুলোর ক্ষতি প্রথমে বোঝা যায় না। ধীরে ধীরে শরীরের ভিতরে সমস্যা তৈরি হতে থাকে এবং একসময় তা বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
4
10
১. ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা: এখন অনেকেই অফিসে বা বাড়িতে দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা মোবাইলের সামনে বসে কাটান। শরীরচর্চা কম হলে রক্ত চলাচলের গতি কমে যায়। এতে ওজন বাড়ে, কোলেস্টেরল জমতে শুরু করে এবং রক্তচাপও বাড়তে পারে। এই সবকিছু মিলিয়ে হার্টের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। চিকিৎসকরা বলছেন, টানা বসে না থেকে প্রতি এক ঘণ্টা অন্তর কয়েক মিনিট হাঁটা বা শরীর নড়াচড়া করা খুব জরুরি।
5
10
২. অতিরিক্ত মানসিক চাপ: চাকরির চাপ, সংসারের দুশ্চিন্তা, অর্থনৈতিক সমস্যা বা সম্পর্কের টানাপোড়েন-এসব কারণে অনেকেই সবসময় মানসিক চাপে থাকেন। দীর্ঘদিন স্ট্রেসে থাকলে শরীরে কর্টিসল নামের হরমোন বেড়ে যায়। এতে রক্তচাপ বাড়ে এবং ধমনিতে প্রদাহ তৈরি হয়। ধীরে ধীরে হার্টের অসুখের ঝুঁকি বাড়তে থাকে। অনেক সময় বাইরে থেকে মানুষকে স্বাভাবিক দেখালেও ভিতরে ভিতরে শরীর ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে।
6
10
৩. কম ঘুম বা অনিয়মিত ঘুম: রাত জেগে মোবাইল দেখা, সিরিজ দেখা বা দেরি করে কাজ করার অভ্যাস এখন খুব সাধারণ। কিন্তু নিয়মিত কম ঘুম হলে হার্ট ঠিকমতো বিশ্রাম পায় না। দিনে ৬ ঘণ্টার কম ঘুম হলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ে। এগুলো সবই হৃদরোগের বড় কারণ। তাই প্রতিদিন অন্তত ৭–৮ ঘণ্টা ভালো ঘুম খুব প্রয়োজন।
7
10
৪. ধূমপান ও মদ্যপান: অনেক তরুণ মনে করেন অল্প ধূমপান বা মাঝে মাঝে মদ খেলে সমস্যা হয় না। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, সিগারেটের ধোঁয়া রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমিয়ে দেয়। অন্যদিকে, অতিরিক্ত অ্যালকোহল রক্তচাপ বাড়িয়ে হার্টের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত করে। দীর্ঘদিন এই অভ্যাস চললে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।
8
10
৫. জাঙ্ক ফুড খাওয়ার অভ্যাস: বার্গার, পিৎজা, কোল্ড ড্রিঙ্কস, অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার-এসব এখন অনেকের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় রয়েছে। এই ধরনের খাবারে বেশি পরিমাণে ট্রান্স ফ্যাট, চিনি ও লবণ থাকে। ফলে শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ে এবং ধমনিতে চর্বি জমতে শুরু করে। এতে রক্ত চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং হার্টের অসুখের আশঙ্কা বাড়ে।
9
10
চিকিৎসকদের মতে, ছোট বয়স থেকেই হৃদযন্ত্রের যত্ন নেওয়া খুব জরুরি। নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করলে হার্ট অনেকটাই সুস্থ রাখা সম্ভব।
10
10
ছোট ছোট ভাল অভ্যাসই ভবিষ্যতে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।