আজকাল ওয়েবডেস্ক: অসমের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। মঙ্গলবার তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অসমে গিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অসমের জনগণকে অভিনন্দন জানান এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ে অবদানের জন্য অসমের বিজেপি কর্মীদের ধন্যবাদ জানান।

এদিন শুভেন্দু বলেন, “আমি অসমের জনগণকে অভিনন্দন জানাই। শুধু অসম নয়, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই বিশাল জয়ে অসমের বিজেপি কর্মীরাও অনেক সহযোগিতা করেছেন।” তিনি আরও বলেন, “উত্তর-পূর্বের উন্নয়নের জন্য ওড়িশা, বিহার, আসাম এবং সিকিম একসঙ্গে কাজ করবে।”

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার প্রশংসা করে শুভেন্দু তাঁকে ‘বড় ভাই’ বলে অভিহিত করেন। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, তাঁদের দু’জনের মধ্যে একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। শুভেন্দু বলেন, “হিমন্তজি আমার বড় ভাই, এবং আমাদের মধ্যে খুব ভাল সম্পর্ক। তিনি যেভাবে কাজ করেন তা দেখে আমি অনেক কিছু শিখি। তিনি একজন অত্যন্ত মাটির মানুষ।”

অনুপ্রবেশ ঠেকানোর জন্য গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার অসম এবং ত্রিপুরায় গৃহীত পদক্ষেপের অনুরূপ ব্যবস্থা নেবে। শুভেন্দু বলেন, “অসম ও ত্রিপুরায় বিজেপি ক্ষমতায় আসায় অনুপ্রবেশকারীদের সমস্যার অবসান ঘটেছে। বাংলায় এমন একটি সরকার ছিল যারা বিএসএফকে জমিও বরাদ্দ করেনি। অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে অসমের মতো পদক্ষেপ পশ্চিমবঙ্গেও নেওয়া হবে।”

বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ অসমে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় এসেছে। বিজেপি, অসম গণ পরিষদ (এজিপি) এবং বোদোল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট (বিপিএফ)-সহ জোটের সহযোগী দলগুলির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে হিমন্ত সর্বসম্মতিক্রমে বিজেপি এবং এনডিএ বিধায়ক দলের নেতা নির্বাচিত হন। হিমন্ত এর আগে রাজ্যের মন্ত্রিসভায় চার নতুন মন্ত্রীর নাম এবং বিধানসভার স্পিকার পদের প্রার্থীর নামও ঘোষণা করেন। এক্স-এ একটি পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন যে, মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে রামেশ্বর তেলি, অতুল বোরা, চরণ বোরা এবং অজন্তা নিয়োগও মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। প্রবীণ বিজেপি নেতা ও বিধায়ক রঞ্জিত দাসকে অসম বিধানসভার স্পিকার পদের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। ১২৬টি আসনের অসম বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ ১০২টি আসন জিতেছে। এর মধ্যে বিজেপি জিতেছে ৮২টি আসনে। জোটসঙ্গী এজিপি ও বিপিএফ ১০টি করে আসনে জয়লাভ করেছে।