আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লি থেকে পুনে যাচ্ছিলেন বছর আঠারোর এক কলেজ পড়ুয়া। গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৩২ ঘণ্টা। কিন্তু ট্রেনের সেই দীর্ঘ সফর ওই তরুণীর কাছে এক দুঃস্বপ্নের মতো হয়ে উঠল। অভিযোগ, কামরার এক সহযাত্রী পুরোটা সময় জুড়ে তাঁকে অতিষ্ঠ করে তোলে। সারাক্ষণ তাকিয়ে থাকা থেকে শুরু করে অশালীন অঙ্গভঙ্গি- কোনও কিছুই বাদ রাখেনি ওই ব্যক্তি।
ছাত্রীটি জানিয়েছেন, তিনি যখন বার্থ-এ বসে ছিলেন এবং ঘুমোনোর চেষ্টা করছিলেন, তখনও ওই ব্যক্তি একদৃষ্টে তাঁর দিকে তাকিয়ে কুরুচিকর মুখভঙ্গি করছিলেন। এমনকী মাঝেমধ্যে কুপ্রস্তাব দেওয়ার মতো করে ফোনের ইশারাও করছিলেন তিনি। একটা সময় পর না পেরে ওই তরুণী নিজের মোবাইলে ব্যক্তির আচরণের ভিডিও রেকর্ড করে ফেলেন। সেই ভিডিও বাড়িতে পাঠালে তাঁর মা ভয় পেয়ে যান। বড় কোনও বিপদের আশঙ্কায় মা তাঁকে পরামর্শ দেন বিষয়টি এড়িয়ে যেতে এবং চুপচাপ গন্তব্যে পৌঁছে যেতে।
কিন্তু এমন হেনস্থা কি মুখ বুজে সহ্য করা সম্ভব? এই প্রশ্ন নিয়ে ওই তরুণী সমাজমাধ্যম 'রেডিট'-এ একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, "আমি কী করব বুঝতে পারছি না। মা বলছেন সব উপেক্ষা করতে। কিন্তু লোকটা সমানে আমায় অস্বস্তিতে ফেলে যাচ্ছে। আমার কী পদক্ষেপ করা উচিত?"
পোস্টটি নজরে আসতেই বহু মানুষ ওই তরুণীর সমর্থনে এগিয়ে আসেন। প্রতিবাদহীন হয়ে সয়ে যাওয়ার বদলে তাঁরা আইনি পথ নেওয়ার পরামর্শ দেন। অনেকেই মনে করিয়ে দেন যে, ভারতীয় রেলের 'রেল মদত' অ্যাপ অথবা ১৩৯ নম্বরে ফোন করে সাহায্য চাওয়া অত্যন্ত জরুরি। নেটিজেনদের দাবি, তরুণীর কাছে যেহেতু ভিডিও ফুটেজ রয়েছে, তাই অভিযোগ জানালে রেল পুলিশ (আরপিএফ) সহজেই ব্যবস্থা নিতে পারবে।
এক ব্যবহারকারী পরামর্শ দিয়েছেন, "আগে লোকটির থেকে দূরত্ব বজায় রেখে তাঁকে স্পষ্ট জানান যে তাঁর ব্যবহারে আপনি অস্বস্তি বোধ করছেন। তাতেও কাজ না হলে তৎক্ষণাৎ টিটিই অথবা রেল পুলিশকে খবর দিন।" ট্রেনের কামরায় মহিলা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেল যে এখন অনেক বেশি কড়া, সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন অনেকে।
