আজকাল ওয়েবডেস্ক:  কর্নাটকে কংগ্রেস সরকার গঠনের দেড় বছর পেরোতেই নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনা ফের তীব্র হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর কাছে পরিস্থিতি নিয়ে স্পষ্টীকরণ চেয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে নেতৃত্বের প্রশ্নে “নিরন্তর বিভ্রান্তি” তৈরি হচ্ছে, যা প্রশাসনিক কাজে প্রভাব ফেলছে। তিনি এও জানিয়েছেন যে তিনি মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করতে আগ্রহী এবং সেই বিষয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক চেয়েছেন।


এই প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে কংগ্রেস-শাসিত কর্নাটকে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ও উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারের মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে কথিত টানাপোড়েনকে ঘিরে। যদিও উভয় নেতাই বারবার দাবি করেছেন যে তাঁদের মধ্যে কোনও রকম দ্বন্দ্ব নেই, তবু রাজনৈতিক মহলে জল্পনা থামেনি। দলীয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও বারবার বলেছে, কোনও ‘ইন্টার্নাল ক্রাইসিস’ নেই। গত মাসেই কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে এই জল্পনাকে উড়িয়ে দিয়ে বলেছিলেন, “হাই কমান্ড কোনও বিভ্রান্তি তৈরি করেনি। রাজ্যের নেতৃত্ব নিজেদের মধ্যে বিষয় মিটিয়ে নেবে।”


খড়গে কংগ্রেস নেতাদের সতর্ক করে দেন ব্যক্তিগত কৃতিত্ব দাবি না করতে। তাঁর কথায়, কংগ্রেসের বিজয় কোনও ব্যক্তির নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে সংগঠন গড়ে তোলার ফল।


সিদ্দারামাইয়া ও শিবকুমার দুইজনই প্রকাশ্যে বলেছেন যে তাঁরা পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছেন। সিদ্দারামাইয়া স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তিনি দলের পূর্ণ আস্থা ভোগ করেন এবং পুরো মেয়াদ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যদিকে শিবকুমার বলেছেন, রিফট বা গোষ্ঠী-রাজনীতি শুধুই বিরোধীদের প্রচার এবং মিডিয়ার কল্পনা। তাঁর কথায়, “আমরা ভাইয়ের মতো কাজ করছি। কোনও নেতা বা দলের সঙ্গে আমার কোনও দ্বন্দ্ব নেই।”


আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে একটি কথিত সমঝোতা। সিদ্দারামাইয়া শপথ নেন ২০ মে ২০২৩, সেই হিসেবে ২০২৩ সালের নভেম্বর নাগাদ নেতৃত্ব বদলের কথা রটেছিল। কিছু শিবকুমার-ঘনিষ্ঠ বিধায়ক দিল্লিতেও যান। যদিও কংগ্রেস দৃঢ়ভাবে জানায়, এমন কোনও চুক্তি হয়নি এবং সিদ্দারামাইয়া পুরো পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করবেন।


শিবকুমার বলেন, “১৪০ জন বিধায়কই আমার বিধায়ক। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব করা আমার চরিত্রে নেই।” তিনি এটাও জানান, মন্ত্রিসভা রদবদলের আগে দিল্লিতে নেতাদের দেখা করা স্বাভাবিক।

 

&t=1486s
অন্যদিকে বিজেপি কংগ্রেস নেতৃত্বকে কটাক্ষ করে বলেছে, সরকার চালানোর চেয়ে ক্ষমতা দখল ও পদের লড়াইয়েই কংগ্রেস বেশি ব্যস্ত। ফলে কর্নাটকের রাজনৈতিক আঙিনায় নেতৃত্ব-প্রশ্নের জল্পনা জারি রয়েছে, যদিও প্রকাশ্যে কংগ্রেস নেতারা ‘সব ঠিক আছে’ বলেই দাবি করছেন।