আজকাল ওয়েবডেস্ক: এআইএডিএম-কে নিয়ে ভোট ময়দানের লড়াইয়ে বোধহয় ভরসা পাচ্ছে না বিজেপি। ফলে নতুন বন্ধু খুঁজতে মরিয়া গেরুয়া বাহিনী। শোনা যাচ্ছে, অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয় থালাপতি-র দল  তামিলগা ভেট্রি কাজাগামের (টিভিকে) সঙ্গে জোট নিয়ে শেষ পর্বের আলোচনায় পৌঁছেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। দলীয় সূত্রের দাবি, জোট জিতলে বিজয়কে উপমুখ্যমন্ত্রীপদ দেওয়ার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। এছাড়াও ৮০ আসন ছাড়া হতে পারে বিজয়ের দল-কে।

বিজেপি মনে করছে, এই পদক্ষেপ যদি বাস্তবে প্রতিফলিত হয়, তবে তা দক্ষিণী রাজ্যের নির্বাচনী সমীকরণ বদলে দিতে পারে। কারণ তামিলনাড়িতে ভোটের সামান্য হেরফেরেই নির্ধারিত হয় তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোর ভাগ্য। যদিও সূত্রের খবর, বিজয়ের নজরে শুধুই মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি। ফলে জোটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও ঝুলে রয়েছে। তবে আপাতত সে রাজ্যের আলোচনার মূল বিষয়বস্তু বিজেপির সঙ্গে টিভিকে-র জোট।

অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয় এবং তাঁর দলকে এনডিএ-র ছাতার তলায নিয়ে আসার জন্য বিজেপি মরিয়া। বিজয়ের সঙ্গে যোগাযোগের পথ খুলতে গেরুয়া শিবির একাধিক মাধ্যম ব্যবহার করছে। সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশের পর থেকেই বিজয়ের রাজনৈতিক দল 'তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম' দ্রুত সবার নজর কেড়েছে। বিজয়কে দলে টানার এই প্রচেষ্টায় যে মূল মাধ্যমগুলোর কথা ভাবা হচ্ছে, তার মধ্যে একটি হল অন্য একটি বিজেপি শাসিত রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগ। মনে করা হচ্ছে, তিনিই এই আলোচনার ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছেন।

বিজয়-এর বিশাল ভক্ত-অনুগামীদের দিকে নজর বিজেপির
অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয়ের প্রতি বিজেপির এই আগ্রহ মূলত তামিলনাড়ু জুড়ে তাঁর বিশাল ভক্তগোষ্ঠীর কারণেই। দলের কৌশলবিদরা মনে করেন যে, এই সমর্থনের সামান্য অংশও আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

সূত্র অনুযায়ী, বিজেপি নেতারা মনে করেন যে, বেশ কিছু আসনে "মাত্র দুই শতাংশ ভোটও জয়ের গতিপথ বদলে দিতে পারে"। তামিলনাড়ুর নির্বাচনী ইতিহাসে প্রায়শই খুব সামান্য ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হতে দেখা গিয়েছে, যার ফলে ভোটের সামান্য হেরফেরও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বিজয় শিবিরে উদ্বেগ
যদিও এনডিএ-র সঙ্গে জোট বাঁধার সম্ভাবনা নিয়ে বিজয়ের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের একাংশের মধ্যে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জোটের পদক্ষেপ বিজয়ের সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক মঞ্চের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর কেমন প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে সন্দিহার অভিনেতা-রাজনীতিকের উপদেষ্টারা।

এই উদ্বেগের মূল কারণ হল- বিজয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন একজন স্বাধীন ভাবমূর্তির নেতা হিসেবে। তিনি তাঁর দলকে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি 'নতুন বিকল্প' হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। বিজয়ের পরামর্শদাতারা আশঙ্কা করছেন যে, কোনও প্রতিষ্ঠিত জাতীয় জোটে খুব আগেভাগে যোগ দেওয়াটা সেই প্রতিশ্রুতিকে লঘু করে দিতে পারে।