আজকাল ওয়েবডেস্ক: আগামী ৪ মে চারটি রাজ্য এবং পুদুচেরির বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ। তারপরই, রাজ্য ও জাতীয় - উভয় স্তরেই বেশ কিছু বড় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে বিজেপি। এছাড়াও, মন্ত্রিসভায়ও রদবদল করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। 

এইসব সিদ্ধান্তের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল, যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বাধীন উত্তরপ্রদেশ সরকারে মন্ত্রিসভার রদবদল ও সম্প্রসারণ। উল্লেখ্য, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতেই সেখানে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের প্রস্তুতি অনেকটাই সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বলে সূত্রের খবর। মন্ত্রিসভায় শূন্য পদগুলো পূরণ করার পাশাপাশি, বর্তমান মন্ত্রীদের কয়েকজনের দপ্তর পরিবর্তন নিয়েও চিন্তাভাবনা চলছে।

দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে, উত্তরপ্রদেশ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি ভূপেন্দ্র চৌধুরী সম্ভবত আবারও রাজ্যের মন্ত্রিসভায় ফিরে আসবেন। আসন্ন নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে, এই রদবদলের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক ও জাতিগত সমীকরণগুলো বিবেচনায় রাখা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকারে পরিবর্তনের পাশাপাশি, বর্তমান সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরীর নেতৃত্বে বিজেপির একটি নতুন রাজ্য কমিটিও গঠিত হতে পারে। এক্ষেত্রে নির্বাচনী কৌশল ও বিবেচনাই দলীয় সংগঠন এবং মন্ত্রিসভার কাঠামো - উভয়কেই প্রভাবিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিহারের ক্ষেত্রেও মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। বিজেপি ও জেডি(ইউ)-এর মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির যে সমঝোতা রয়েছে, সেই অনুযায়ী উভয় দলই ১৬টি করে মন্ত্রিপদ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, বর্তমানে সম্রাট চৌধুরীর হাতে থাকা দপ্তরগুলো সম্ভবত বিজেপির কোটা থেকে আসা মন্ত্রীদের দেওয়া হবে। অন্যদিকে, জেডি(ইউ)-এর দুই উপ-মুখ্যমন্ত্রীর হাতে থাকা দপ্তরগুলো সম্ভবত জেডি(ইউ)-এর ভাগ থেকে আসা অন্য মন্ত্রীদের মধ্যে পুনর্বণ্টন করা হবে।

জাতীয় স্তরেও বিজেপি সভাপতি নীতীন নবিনের নেতৃত্বাধীন দলের নতুন কমিটি শীঘ্রই চূড়ান্ত করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, নতুন এই সাংগঠনিক কাঠামোতে অভিজ্ঞ ও তরুণ - উভয় প্রজন্মের নেতাদেরই সমন্বয় ঘটানো হবে এবং এতে মহিলাদের ৩৩ শতাংশেরও বেশি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে।

সব মিলিয়ে, মে মাসটি বিজেপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। এই মাসে গৃহীত রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্তগুলোর মূল লক্ষ্য হবে- প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি, সামাজিক সমীকরণগুলোর ভারসাম্য বজায় রাখা এবং আসন্ন নির্বাচনের জন্য দলকে পুরোপুরি প্রস্তুত করে তোলা।