আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেরলের বর্তমান বিধায়কদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট প্রকাশ পেয়েছে। এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস এবং কেরল ইলেকশন ওয়াচ। 

সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, কেরলের প্রায় ৭০ শতাংশ বিধায়কের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। মোট ১৩২ জন বিধায়কের হলফনামা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯২ জন বিধায়ক নিজেদের বিরুদ্ধে মামলা থাকার কথা স্বীকার করেছেন। অর্থাৎ, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি বিধায়ক আইনি সমস্যায় জড়িত। 

এর মধ্যে ৩৩ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী এই বিধায়কেরা খুন, খুনের চেষ্টা বা অন্যান্য গুরুতর অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। দু’জন বিধায়কের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় খুনের মামলা রয়েছে। পাশাপাশি, তিনজনের বিরুদ্ধে ৩০৭ ধারায় খুনের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও, তিনজন বিধায়কের বিরুদ্ধে নানান ধরণের মহিলাঘটিত  অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে একটি ধর্ষণের মামলাও রয়েছে। 

দলের ভিত্তিতেও এই রিপোর্টে উদ্বেগজনক ছবি সামনে এসেছে। কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া (মার্কসবাদী)-এর ৫৮ জন বিধায়কের মধ্যে ৪৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস-এর ২১ জনের মধ্যে ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া-এর প্রায় ৪৪ শতাংশ বিধায়কের বিরুদ্ধে মামলা আছে। আর ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ-এর ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৮৬ শতাংশ। 

অন্যদিকে টাকার অঙ্কেও বড় তথ্য সামনে এসেছে। ৫৫ শতাংশ বিধায়ক কোটিপতি। অর্থাৎ ৭২ জন বিধায়কের সম্পত্তি ১ কোটির বেশি। সব মিলিয়ে ১৩২ জন বিধায়কের মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৬৩.৭৮ কোটি টাকা। প্রতি বিধায়কের গড় সম্পদ প্রায় ২.৭৫ কোটি টাকা। 

সবচেয়ে ধনী বিধায়ক হলেন ম্যাথিউ কুঝালনাডান। তার মোট সম্পত্তি ৩৪ কোটির বেশি। তার পরেই রয়েছেন নির্দল বিধায়ক মণি সি কাপেন। তার সম্পদ ২৭ কোটির বেশি। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন কে বি গণেশ কুমার। তার সম্পদ ১৯ কোটির বেশি। সবচেয়ে কম সম্পদ রয়েছে পি পি সুমোদ-এর। তার মোট সম্পত্তি প্রায় ৯.৯ লক্ষ টাকা। 

শিক্ষাগত তথ্যও দেওয়া হয়েছে। ৬১ শতাংশ বিধায়ক স্নাতক বা তার বেশি শিক্ষিত। ৩৬ শতাংশের শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির মধ্যে। মহিলা প্রতিনিধিত্ব খুবই কম। মাত্র ৮ শতাংশ বিধায়ক মহিলা।  বয়সের দিক থেকে এই রিপোর্টের দাবি বেশিরভাগ বিধায়কই বয়স্ক। ৭০ শতাংশ বিধায়কের বয়স ৫১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে। ৩০ শতাংশ বিধায়কের বয়স ২৫ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। 

সব মিলিয়ে রিপোর্টটি কেরলের রাজনীতির এক জটিল ছবি তুলে ধরেছে। একদিকে আইনি অভিযোগের চাপ। অন্যদিকে বিপুল সম্পদের উপস্থিতি। বিশ্লেষকদের মতে, এই তথ্যগুলি ভবিষ্যতে ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।