আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রাথমিক ফলাফলের প্রবণতায় বিজয়ের দল 'টিভিকে' -কে ৯৮ আসনে এগিয়ে। ফলে চেন্নাইয়ের ক্ষমতার অলিন্দে আবারও জোট গঠনের গুঞ্জন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। গত কয়েক মাস ধরে দুই পক্ষের একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ এবং ভেস্তে যাওয়া আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, এআইএডিএমকে ও বিজয়ের মধ্যে জোট হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল।

২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের আগে এআইএডিএমকে ও বিজয়ের মধ্যে জোট গঠনের পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে নির্বাচনী ময়দানে টিভিকে-এর অভিষেক যে বিপুল সাড়া জাগিয়েছে, তা নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণের প্রশ্নটিকে এখনও জোরালোভাবেই জিইয়ে রেখেছে।  

নেপথ্যে অবশ্য অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো সক্রিয় ছিল। সেই সময়ের আলোচনা পর্যবেক্ষণকারী রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালের শেষের দিকে এআইএডিএমকে বিজয়ের দল 'তামিলগা ভেত্রি কাজাগাম' -এর সঙ্গে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সম্ভাব্য জোট গঠনের বিষয়ে প্রাথমিক আলাপ-আলোচনা শুরু করেছিল।

সেই আলোচনা ভেস্তে যায় যখন টিভিকে বেশ কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করে এআইএডিএমকে-র উপর। শর্তগুলোর মধ্যে ছিল, জোটের নেতৃত্বভার গ্রহণ, বিজয়কে মুখ্যমন্ত্রী পদের প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরা এবং মোট ২৩৪টি বিধানসভা আসনের প্রায় অর্ধেক আসন নিজেদের জন্য দাবি করা। যে দলটি একাধিকবার এই রাজ্যের শাসনভার সামলেছে, সেই এআইএডিএমকে নির্বাচনী ময়দানে নবাগত একটি দলকে এতটা প্রাধান্য বা অগ্রাধিকার দিতে রাজি ছিল না।

আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর এআইএডিএমকে পুনরায় বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের দিকে ঝুঁকে পড়ে। অন্যদিকে টিভিকে তাদের পূর্বসিদ্ধান্তেই অটল থাকে এবং ঘোষণা করে যে- তারা ২৩৪টি আসনেই এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। সেই মুহূর্ত থেকে দুই পক্ষের প্রকাশ্য অবস্থান ক্রমশ কঠোর হতে থাকে।

এআইএডিএমকে-এর সঙ্গে জোট গঠনের জল্পনা-কল্পনাকে টিভিকে বারবার 'সম্পূর্ণ মিথ্যা' বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এআইএডিএমকে জোর দিয়ে বলেছে যে- তারা স্বাধীনভাবেই নির্বাচনে লড়বে। বিজয়ের বার্তাগুলো ক্রমশ আরও শাণিত হয়ে ওঠে এবং জোট-রাজনীতির প্রতি তাঁর অনীহা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। নির্বাচনী প্রচারভিযান এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ডিএমকে সরকার ও বিজেপি - উভয়ের বিরুদ্ধেই সরাসরি আক্রমণের ধার বাড়াতে থাকেন এবং এআইএডিএমকে-বিজেপি বলয় থেকে নিজেকে দৃশ্যমানভাবেই দূরে সরিয়ে নেন।

এআইএডিএমকে-এর নেতারাও একই পথ অনুসরণ করেন। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে দলের প্রধান এডাপ্পাদি কে পালানিস্বামী প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন যে, বিজয়-নেতৃত্বাধীন টিভিকে-এর সঙ্গে তাঁদের কোনও জোট হবে না। এমনকি এ বিষয়ে যেসব আলোচনার কথা শোনা যাচ্ছিল, সেগুলোকে তিনি কেবল 'সংবাদ মাধ্যমের গুজব' হিসেবেই অভিহিত করেন। পরবর্তী কয়েক সপ্তাহ ধরে এআইএডিএমকে ও টিভিকে-এর নেতাদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও কথার লড়াই চলতে থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাটিই ছিল নির্বাচনের আগে জোট গঠনের সুযোগ বা 'উইন্ডো' পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত সংকেত।

রাজনৈতিকভাবে, নির্বাচনের আগে জোটের বিষয়ে উভয় দলই জোট না করার নীতিতে প্রচার চালিয়েছে এবং রাজ্যজুড়ে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত। মাত্র দুই বছর বয়সী টিভিকে-র এমন এক অভিষেক সাফল্য সকলকে চমকে দিচ্ছে। প্রবণতা অনুযায়ী, ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়াই বিজয়কে রাজ্য রাজনীতির শীর্ষ স্তরে পৌঁছে দেবে।

তবে নির্বাচন-পরবর্তী প্রশ্নটিই বেশি সম্ভাবনাময়। যদি বিধানসভা ত্রিশঙ্কু হয় এবং টিভিকে বিপুল সংখ্যক আসন নিয়ে জয়ী হয়, তবে এই হিসাব এমন আলোচনার জন্ম দিতে পারে যা ভোটের আগে অসম্ভব ছিল। তবে এর জন্য উভয় পক্ষকেই বড় ধরনের রদবদল করতে হবে। আগে বিজয়ের নেতৃত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করার পর এআইএডিএমকে-কে তাঁকে প্রায় সমান ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে মেনে নিতে হবে। অন্যদিকে, টিভিকে-কেও এআইএডিএমকে-বিজেপি অক্ষের সঙ্গে জোট না করার বিষয়ে তাদের বারবার দেওয়া বার্তা থেকে সরে আসতে হবে।