আজকাল ওয়েবডেস্ক: চলন্ত অটো থেকে ছিটকে পড়তেই বিপত্তি। মাথায় গুরুতর চোট পেয়ে ঘটনাস্থলেই মর্মান্তিক পরিণতি অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর। যে দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক শোরগোল ছড়িয়েছে। 

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে তেলেঙ্গানায়। সোমবার পুলিশ জানিয়েছে, কামারেড্ডি জেলায় চলন্ত অটো থেকে পড়েই অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। অটো থেকে পড়েই গুরুতর আহত হয়েছিল সে। ঘটনাটি ঘটেছে এক গুরুকুল স্কুলে। সেখানে তফশিলি জাতির পড়ুয়ারা পড়াশোনা করে। 

 

পুলিশ জানিয়েছে, প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানের জন্য বাইরে থেকে কিছু চেয়ার ভাড়া করেছিলেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। অটোতে সেই চেয়ার নিয়ে আসা হয়েছিল। তাতেই ছিল অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। অটো থেকে চেয়ার নামানোর পরেই ঘটে দুর্ঘটনাটি। চলন্ত অটো থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যায় সে। 

 

মাথায় গুরুতর চোট পায়। তড়িঘড়ি করে স্কুলের কর্মীরা তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে যাওয়ার পরেই চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে আসার আগেই ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। 

 

দুর্ঘটনার পরেই ওই অটোচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা জানিয়েছে, ছাত্রী নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটো থেকে পড়ে যাওয়ার পরেও অটোচালক উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেননি। এমনকী অটোটি না থামিয়েই তিনি দ্রুত স্কুল ছেড়ে চলে যান। চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

 

দুর্ঘটনার পরেই পড়ুয়াদের অভিভাবকরা তুমুল বিক্ষোভ দেখান। স্থানীয়দের অভিযোগ, কারণ ছাড়াই নাবালক পড়ুয়াদের ওই স্কুলে শারীরিক কসরত করানো হয়। শিশুশ্রমের অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। দুর্ঘটনার পর স্কুলের প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা। 

 

গত বছর নভেম্বরে অন্য এক রাজ্যে আরও ভয়াবহ এক ঘটনা ঘটেছিল। স্কুলে পৌঁছতে সামান্য দেরি হয়েছিল। এর জেরেই কড়া শাস্তি খুদে ছাত্রীকে। স্কুল প্রাঙ্গণে ১০০ বার ওঠবোস করানো হয় তাকে। নির্মম শাস্তির জেরে স্কুলেই জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়ে সে। কিছুক্ষণেই মর্মান্তিক পরিণতি হয় ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীর। 

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছিল মহারাষ্ট্রে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে শিশু দিবসে। ভাসাইয়ের শ্রী হনুমন্ত বিদ্যা মন্দির হাই স্কুলে। শুক্রবার স্কুলে ১০ মিনিট দেরিতে পৌঁছনোর জন্য তাকে ১০০ বার ওঠবোস করানো এক শিক্ষক। ১০০ বার ওঠবোস করার পরেই কোমরে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হয় ষষ্ঠ শ্রেণির ওই ছাত্রীর। 

 

জানা গেছে, সেদিন শরীরে অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে স্কুল থেকে বাড়িতে ফিরে আসে ১২ বছরের নাবালিকা। কিন্তু ক্রমেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এরপর দ্রুত নালাসোপারার এক হাসপাতালে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হতেই মুম্বইয়ের জেজে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় ছাত্রীকে। সেখানে চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যু হয় তার। 

 

মৃত ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, স্কুলে শিক্ষকের নির্মম শাস্তির জেরেই তার মৃত্যু হয়েছে। ১০০ বার ওঠবোস করার সময় কাঁধেই ছিল তার স্কুল ব্যাগ‌। যে কারণে আরও যন্ত্রণায় কাতরাতে শুরু করে সে। এ ঘটনার পরেই স্থানীয়রা ও অভিভাবকরা স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করার দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। দ্য মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ না করা পর্যন্ত স্কুল চালু করা যাবে না।