আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত তিন দশক ধরে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (এসবিআই)-র হয়ে নিজেদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কাজ করেছেন দুই ঝাড়ুদার। বর্তমান এআই নির্ভর প্রযুক্তির যুগে এই দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীদের পক্ষে নতুন কোনও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়া একরকম অসম্ভব। এই মানবিক দিক বিবেচনা করে ওড়িশা হাইকোর্ট স্টেট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে, চাকরি স্থায়ীকরণের পরিবর্তে ওই দুই কর্মীকে ২০ লক্ষ টাকা করে মোট ৪০ লক্ষ টাকা এককালীন ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এমনই খবর সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে।

 

গত ২৩ জুন, বিচারপতি কৃষ্ণ এস দীক্ষিত এবং বিচারপতি চিত্তরঞ্জন দাশের ডিভিশন বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে। এর আগে, ২০২৫ সালের ২০ জুন হাইকোর্টেরই এক একক বিচারপতির বেঞ্চ মায়াধর নায়েক এবং বাইনা নায়েক নামে ওই দুই কর্মীর স্থায়ীকরণ, বোনাস ও বকেয়া ভাতার দাবি খারিজ করেছিলেন। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁরা।

 

মামলার শুনানিতে এসবিআই কর্তৃপক্ষ দুই কর্মীকে এককালীন রফা হিসেবে ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু আদালত ব্যাঙ্কের এই প্রস্তাবকে অত্যন্ত 'সামান্য ক্ষতিপূরণ' বলে প্রত্যাখ্যান করে।

 

ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, "ব্যাঙ্কের দেওয়া ৫ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণের প্রস্তাবটি এতটাই সামান্য যে তা উল্লেখ করার মতোও নয়। বর্তমান সময়ে যেখানে রক্তের চেয়ে রুটির দাম বেশি এবং টাকার মূল্য ক্রমাগত কমছে, সেখানে এই টাকা কিছুই নয়।"

 

আদালত আরও জানান, "আপিলকারীরা ব্যাঙ্কের জন্য বহু বছর পরিশ্রম করেছেন। এই পড়ন্ত বয়সে তাঁরা অন্য কোথাও ভাল চাকরিও পাবেন না। এআই যুগে এতদিন যে পেশার পিছনে এতটা সময় দিয়েছেন, তাঁরা কীভাবে এ বার জীবিকা নির্বাহ করবেন তা নিয়ে আমরা নিশ্চিত নই।"

 

উল্লেখ্য, এই বিরোধের সূত্রপাত নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে। ১৯৯৪ সালে মায়াধর নায়েক এবং ১৯৯৫ সালে বাইনা নায়েক ভুবনেশ্বরে স্টেট ব্যাঙ্কের সরকারি ট্রেজারি শাখায় দৈনিক মজুরিভিত্তিক ঝাড়ুদার হিসেবে নিযুক্ত হন। দীর্ঘ সময় কাজ করার পরও চাকরি স্থায়ী না হওয়ায় ১৯৯৯ সালে তাঁরা প্রথমবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। এরপর ২০০৭ থেকে দীর্ঘ আইনি লড়াই চলে।