আজকাল ওয়েবডেস্ক: ব্রেকআপ করতে চান? কিন্তু নিজে মুখে বলতে পারছেন না? তাহলে এবার কুঁকড়ে বসে থাকার দিন শেষ, কারণ আপনার হয়ে পার্টনারকে ‘টা-টা’ বলে দেওয়ার জন্য বাজারে এসে গেছে পেশাদার বিশেষজ্ঞ। ঠিক যেমন ‘তু ঝুঠি ম্যায় মক্কার’ সিনেমাতে রণবীর কাপুর আর অনুভব সিং বাসী লুকিয়ে লুকিয়ে ‘ব্রেকআপ কনসালট্যান্ট’ হিসেবে কাজ করতেন, এবার আর সেটা কোনো গোপন মিশন নয়। ‘Dating.com’ নামের একটি আন্তর্জাতিক ডেটিং প্ল্যাটফর্ম এই অদ্ভুত কাজটিকে একেবারে অফিশিয়াল রূপ দিয়ে তৈরি করেছে নতুন এক পদ—‘চিফ ব্রেকআপ অফিসার’ বা সিবিও। মাসে প্রায় ৩ হাজার মার্কিন ডলার (যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২.৮ লক্ষ টাকা) বেতনে স্রেফ অচেনা মানুষদের সম্পর্ক ভাঙার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে এই পদে। যোগ্যতা? অসাধারণ ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বা আবেগীয় বুদ্ধি, দারুণ যোগাযোগ দক্ষতা এবং হ্যাঁ, জীবনে অন্তত তিন-তিনটে ব্রেকআপের ধাক্কা সামলানোর অভিজ্ঞতা থাকলে নাকি বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে!
শুনতে যতই অদ্ভুত আর মজার লাগুক না কেন, এই খবরটি আমাদের আধুনিক সমাজের এক চরম বাস্তব আর ভয়ানক রূপকে সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে। প্রশ্ন উঠতেই পারে, হঠাৎ এমন একটা চাকরির দরকার পড়ল কেন? ডেটিং সাইটটির সমীক্ষা বলছে, আজকের জেনারেশন জেড এবং মিলেনিয়ালদের মধ্যে প্রায় ৮৪ শতাংশ মানুষ জীবনের কোনো না কোনো মোড়ে ‘ঘোস্টিং’ বা আচমকা যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার যন্ত্রণার শিকার হয়েছেন। সম্পর্ক যখন শেষের মুখে, তখন অনেকেই মাঝপথে কোনও কথা না বলে উধাও হয়ে যান। এই প্ল্যাটফর্মটির দাবি, হুট করে চুপ হয়ে যাওয়ার চেয়ে অন্তত একজন পেশাদার মানুষের মুখ থেকে স্পষ্ট বিদায়বার্তা শোনাও ভালো। এতে অন্তত অপর প্রান্তের মানুষটি একটা ‘ক্লোজার’ বা সম্পর্কের ইতি টানার মানসিক শান্তি পান।
কিন্তু এখানেই আপত্তি তুলেছেন সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। দিল্লির নামী রিলেশনশিপ এক্সপার্ট রুচি রূহ স্পষ্ট জানিয়েছেন, ব্রেকআপ শুধু একটা খবর পৌঁছে দেওয়া নয়; এটা একটা অত্যন্ত গভীর আবেগঘন প্রক্রিয়া। একটা সম্পর্কে নিজের ভুলভ্রান্তির দায় নেওয়া, অপর মানুষের কষ্টটাকে শ্রদ্ধা জানানো—এই বিষয়গুলো কখনো অন্য কোনও তৃতীয় ব্যক্তিকে দিয়ে ‘আউটসোর্স’ বা ভাড়া করানো যায় না। তৃতীয় পক্ষের সাহায্য তখনই নেওয়া উচিত, যখন সম্পর্কে কোনও শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের ভয় থাকে। তা ছাড়া, যে মানুষটি কঠিন পরিস্থিতি এড়াতে সিবিও-র পেছনে লুকাচ্ছেন, তিনি তো জীবনে কখনো সঠিক যোগাযোগ করতেই শিখবেন না। আজ যিনি ব্রেকআপের কঠিন আলোচনা থেকে পালাচ্ছেন, কাল তিনি অন্য সম্পর্কে গিয়েও একই ভীরুতার পরিচয় দেবেন।
সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হল, আমরা যদি আমাদের জীবনের সবচেয়ে ব্যক্তিগত আবেগগুলোকেও এভাবে টাকার বিনিময়ে অন্যকে দিয়ে করাতে শুরু করি, তবে মানুষের স্বাভাবিক যোগাযোগের ক্ষমতাটাই একদিন হারিয়ে যাবে। একসময় আমরা ভাবতাম প্রযুক্তি মানুষের খাটনি কমাতে এসেছে, কিন্তু আজ দেখা যাচ্ছে তা মানুষের অনুভূতি প্রকাশের জায়গাটুকুও কেড়ে নিচ্ছে। চ্যাটবট বা এআই দিয়ে চ্যাট করা তো ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে, এবার কি তবে প্রেম করা বা সঙ্গীর সাথে কথা বলার জন্যও ভবিষ্যতে মানুষ ভাড়া করতে হবে?
পুরো বিষয়টা আপনার কাছে কেমন লাগল? প্রতি মাসে প্রায় পৌনে তিন লক্ষ টাকার বিনিময়ে অচেনা মানুষদের ‘ডাম্প’ করার এই চাকরিটার জন্য আপনি কি আবেদন করতে চাইবেন?















