আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিহারের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা হল বুধবার, যখন বিজেপির প্রবীণ নেতা সম্রাট চৌধুরী ২১তম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। রাজভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল। এই শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে বিহারের রাজনীতিতে কেন্দ্রীয় মুখ হিসেবে থাকা নীতীশ কুমার অধ্যায়ে পড়ল ইতি।
মঙ্গলবারই মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন নীতীশ কুমার এবং তাঁর মন্ত্রিসভা ভেঙে দেন। পরবর্তীতে তিনি রাজ্যসভায় যোগ দেন। তাঁর পদত্যাগের ফলে বিজেপি প্রথমবারের মতো সরাসরি বিহারের ক্ষমতার কেন্দ্রে আসার সুযোগ পেল।
নতুন মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী আগে উপমুখ্যমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন, যা তাঁকে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ করেছে। ২০১৭ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক উত্থান দ্রুত হয়েছে। মঙ্গলবার তাঁকে বিজেপি বিধায়ক দলনেতা নির্বাচিত করা হয়।
২৪৩ সদস্যের বিহার বিধানসভায় বিজেপির ৮৯ জন বিধায়ক রয়েছে, যা দলটিকে একক বৃহত্তম শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই সংখ্যাগত শক্তির ভিত্তিতেই দলের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পথ সুগম হয়।
চৌধুরীর মুখ্যমন্ত্রী পদে আরোহন বিহারের জাতিগত রাজনীতিতেও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি কোয়েরি সম্প্রদায় থেকে উঠে আসা দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী। এর আগে ১৯৬৮ সালে সতীশ প্রসাদ সিং খুব অল্প সময়ের জন্য এই পদে ছিলেন।
৫৭ বছর বয়সী চৌধুরীর রাজনৈতিক যাত্রা ছিল ওঠানামায় ভরা। ১৯৯৯ সালে রাবড়ি দেবীর মন্ত্রিসভায় প্রথম সুযোগ পেলেও বয়সজনিত বিতর্কে সেই অধ্যায় দ্রুত শেষ হয়। পরবর্তীতে তিনি ২০০০ সালে নির্বাচনে জিতে পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করেন এবং ধীরে ধীরে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান মজবুত করেন।
২০১৭ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁর ভাগ্য বদলে যায়। কোয়েরি ও ওবিসি ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সমর্থনে তিনি দ্রুত দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে অমিত শাহের সমর্থন তাঁর উত্থানে বড় ভূমিকা নিয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে মত।
অন্যদিকে, নীতীশ কুমারের বিদায় বিহারের এক দীর্ঘ রাজনৈতিক যুগের অবসান ঘটাল। ২০০৫ সাল থেকে শুরু করে তিনি মোট দশবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। “পাল্টু কুমার” নামে পরিচিত তিনি উন্নয়নমূলক প্রকল্প, নারীদের জন্য সংরক্ষণ এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে একটি শক্তিশালী জনভিত্তি গড়ে তুলেছিলেন।
তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে ঘন ঘন জোট পরিবর্তন—এনডিএ ও মহাগঠবন্ধনের মধ্যে যাতায়াত—তাঁকে যেমন বাস্তববাদী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে, তেমনই সমালোচনার মুখেও ফেলেছে।
সব মিলিয়ে, সম্রাট চৌধুরীর নেতৃত্বে বিহারের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় শুরু হল। এখন নজর থাকবে, তিনি কীভাবে প্রশাসন পরিচালনা করেন এবং বিজেপির এই সরাসরি শাসন রাজ্যের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে।
















