আজকাল ওয়েবডেস্ক:  মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিণ্ডে মুম্বই পৌরসভা গঠনের পর তীব্র রাজনৈতিক দরকষাকষির প্রেক্ষাপট শুরু। শিবসেনা গোষ্ঠীর নবনির্বাচিত কর্পোরেটরদের পাঁচতারা হোটেলে স্থানান্তর করা হল। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শিণ্ডে সেনার টিকিটে নির্বাচিত ২৯ জন কর্পোরেটরকে বান্দ্রার তাজ ল্যান্ডস অ্যান্ড হোটেলে পৌঁছতে বলা হয়েছে। তাদের অন্তত তিন দিন সেখানেই থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য হল প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর ‘হর্স-ট্রেডিং’ বা ‘পোচিং’ ঠেকানো, যখন পুরসভায় ক্ষমতা গঠনের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।


বিএমসিতে ২৯টি আসন পেয়ে শিণ্ডে গোষ্ঠী বিজেপির সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসাবে উঠে এসেছে, কারণ বিজেপি এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। দলীয় নেতাদের দাবি, এই পরিস্থিতিতে একনাথ শিণ্ডে কোনও ঝুঁকি নিতে চান না। শিবসেনার সব কর্পোরেটরকে একসাথে রেখে তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান। ভারতীয় রাজনীতিতে বহুবার দেখা গেছে, সরকার বা পৌরসভা গঠনের সংবেদনশীল সময়ে জনপ্রতিনিধিদের লাক্সারি হোটেল বা রিসোর্টে রাখা হয় যাতে ভাঙন রোধ করা যায়। মুম্বইর ক্ষেত্রেও সেই ‘রিসোর্ট পলিটিক্স’-এর দৃশ্য আবার ফিরে এসেছে।


২০১৯ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী অচলাবস্থায় শিবসেনা, কংগ্রেস ও এনসিপির বিধায়কদের আলাদা হোটেলে রাখা হয়েছিল, যাতে শিবির পরিবর্তন না হয়। এমনকি ২০২২ সালে শিবসেনা ভেঙে যাওয়ার সময় শিণ্ডে গোষ্ঠীর বিধায়কদের প্রথমে সুরাট, পরে গৌহাটি ও গোয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এই ঘটনা তখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।


এদিকে সাংবাদিক বৈঠকে শিবসেনা প্রধান উদ্ভব ঠাকরে বলেন, তিনি সব পৌরসভায় প্রচার করতে পারেননি বলে দুঃখিত। তবে ভোটারদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, এই নির্বাচন ছিল “শাসক জোটের পরিচালিত সবচেয়ে জঘন্য নির্বাচন”।  বিএমসির মেয়র নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নে উদ্ভব ঠাকরে বলেন, তার দল এখনও মুম্বইতে নিজেদের মেয়র দেখতে চায়, কিন্তু সংখ্যার বিচারে তা সম্ভব নয়। 


এই নির্বাচনের ফলাফল শাসক মহাযুতি জোটের পক্ষে গেলেও তা শিণ্ডের জন্য পুরোপুরি সুখকর হয়নি। বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফড়নবিশের নেতৃত্বে দল ২২৭টির মধ্যে ৮৯টি ওয়ার্ড জিতে একক বৃহত্তম দলে পরিণত হয়েছে। শিণ্ডে শিবসেনা পেয়েছে ২৯টি আসন, ফলে মহাযুতির মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৮—যা ১১৪-এর সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা অতিক্রম করে। তবে শিণ্ডে গোষ্ঠী পুরনো শিবসেনার মুম্বইভিত্তিক ভোটভিত্তিকে ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। ইউবিটি শিবসেনা এখনও ৬৫টি আসন পেয়ে তাদের থেকে বহুদূরে এগিয়ে।

&t=1481s


কংগ্রেস পেয়েছে ২৪, এআইএমআইএম ৮ এবং ইউবিটি–এমএনএস–এনসিপি (এসপি) জোট ৭২টি আসন। রাজনৈতিক সমীকরণে তাই এখন শিণ্ডে শিবিরই ‘কিংমেকার’। আর সেই কারণেই মুম্বইতে আবারও জমে উঠেছে ‘রিসর্ট পলিটিক্স’।