আজকাল ওয়েবডেস্ক: রতন টাটার প্রয়াণের পর থেকেই বারবার চর্চায় উঠে এসেছে তাঁর অপূর্ণ প্রেমের কথা। লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রেমে পড়েছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি। কিন্তু ১৯৬২ সালে ইন্দো চায়না যুদ্ধ চলার কারণে মেয়েটির পরিবার তাঁকে ভারতে পাঠাতে চায়নি। পূর্ণতা পায়নি প্রেম। কিন্তু যোগাযোগ রয়ে গিয়েছিল। বহু বছর পরেও দেখা হয়েছে দু' জনের।

জানা যায়, ১৯৬০ নাগাদ ক্যারোলিন এমমনসের প্রেমে পড়েন রতন। ক্যারোলিন নিজে মার্কিন স্থপতি ফ্রেডরিক আর্লের কন্যা। ফ্রেডরিকের সঙ্গে রতন টাটার বাবার যুগ্ম ব্যবসাও ছিল। সফল ভাবে চলছিল তাঁদের সংস্থা ‘জন্স অ্যান্ড এমস’। রতন যখন সবে ১৯, তখন দেখা হয় তাঁর ক্যারলিনের সঙ্গে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পড়ার সময় প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয় তাঁদের।  দু’ জনের প্রেমের মাঝে বাধ সেজেছিল যুদ্ধ। ইন্দো-চায়নার যুদ্ধের কারণেই পূর্ণতা পায়নি প্রেম।  

টমাস ম্যাথিউ, রতন টাটার জীবনীতে ক্যারোলিনের জবানীতে লিখেছিলেন, তিনি প্রথম দেখেই পছন্দ করেছিলেন রতন টাটাকে। কিন্তু ওই সম্পর্ক তাঁদের দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১৯৬২-তে রতন তাঁর অসুস্থ ঠাকুমাকে দেখতে ভারতে ফিরে আসেন। ক্যারোলিনও চেয়েছিলেন তার পরে পরেই দেশে আসতে। কিন্তু যুদ্ধ-কাল বদলে দেয় সবকিছু। ক্যারোলিন নিজেও তাঁদের সম্পর্ককে আরও একটা সুযোগ না দিতে পেরে বারবার আফসোসও করতেন। পরে ওয়েন জোনসকে বিয়ে করেন ক্যারোলিন। ২০০৬ সালে প্রয়াত হন ওয়েন। 

পরে ক্যারোলিন ভারতেও আসেন। জানা যায়, তিন ভাইয়ের এক সিনেমা দেখে আপ্লুত ক্যারোলিনের মনে পড়ে টাটার কথা। গুগলে খোঁজ করে দেখেন রতন টাটা তখন টাটা সন্স-এর চেয়ারম্যান। ইমেলে যোগাযোগ করেন তাঁর সঙ্গে এবং ভারতে আসেন তিনি। ম্যেথিউ লিখেছেন, ক্যারোলিন এবং টাটা দিল্লিতে দেলহা করেন। তাঁরা একসঙ্গে সময় কাটান। মাঝেমাঝেই দেশে আসতেন বলেও টাটার জীবনীতে উল্লেখ করেছেন ম্যাথিউ। ২০১৭-তে টাটার ৮০তম জন্মদিনেও এসেছিলেন, ২০২১-এ টাটা যখন আমেরিকায় গিয়েছিলেন, তখনও দুজনের সাক্ষাৎ হয়।