আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজস্থানের কোটায় যেন হুবহু সিনেমার চিত্রনাট্য! গৃহস্থের বাড়িতে চুরি করতে ঢুকে রান্নাঘরের একজস্ট ফ্যানের গর্তে আটকে পড়লেন এক চোর। পা থেকে কোমর পর্যন্ত ভেতরে, বাকিটা বাইরে- এই অবস্থায় প্রায় ঘণ্টাখানেক অসহায় ভাবে ঝুলে থাকতে হল তাঁকে।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৩ জানুয়ারি সুভাষকুমার রাওয়াত তাঁর পরিবার নিয়ে বাইরে ঘুরতে গিয়েছিলেন। খাটুশ্যামজি ভ্রমণে গিয়েছিলেন সপরিবারে৷ ৪ জানুয়ারি রাত ১টা নাগাদ তাঁরা যখন বাড়ি ফেরেন, তখন সদর দরজায় স্কুটারের হেডলাইটের আলো পড়তেই চক্ষু চড়কগাছ রাওয়াত দম্পতির। তাঁরা দেখেন, রান্নাঘরের দেওয়ালের একজস্ট ফ্যানের ফাঁকে অদ্ভুত ভাবে আটকে রয়েছেন এক ব্যক্তি।

পুলিশ সূত্রের খবর, চুরির মতলবেই ওই ব্যক্তি বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু একজস্ট ফ্যানের সরু গর্ত দিয়ে গলতে গিয়েই ঘটে বিপত্তি। কোমর অবধি ঢোকার পর তিনি সেখানে এমন ভাবে আটকে যান যে, আর নড়ার উপায় ছিল না। বাড়ির মালিকের আসার শব্দ পেয়ে তাঁর সঙ্গী তাঁকে ফেলে রেখেই চম্পট দেয়।

চিৎকার-চেঁচামেচিতে পাড়া-প্রতিবেশীরা জড়ো হন বাড়িতে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে এই টানটান নাটক। পরে পুলিশ এসে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে গ্রেপ্তার করে। জানা গিয়েছে, লোকচক্ষুর আড়ালে থাকতে ওই চোরেরা পুলিশের স্টিকার লাগানো একটি গাড়ি নিয়ে এসেছিল। পলাতক সঙ্গীর খোঁজে ইতিমধ্যেই তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি এই চক্রটি এলাকার আর কোনও চুরির ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

অন্যদিকে, পুনের এক যুবক ও তাঁর বন্ধুরা নিজেদের বাড়ির বারান্দায় আটকে পড়ে চরম বিপাকে পড়লেন। আর তা দেখে গোটা নেটপাড়া এখন হাসিতে ফেটে পড়ছে। রাত ৩টের সময় নিজেদের বারান্দায় বন্দি হয়ে যাওয়ার পর যেভাবে তাঁরা উদ্ধার পেলেন, সেই ভিডিও এখন সমাজমাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল।

মিহির গহুকার নামে এক যুবক ইনস্টাগ্রামে এই ভিডিওটি পোস্ট করেছেন। তাতে দেখা যাচ্ছে, রাত তখন ৩টে। মিহির ও তাঁর বন্ধুরা বারান্দায় আটকে পড়েছেন। বাড়ির ভেতরে বাবা-মা অঘোরে ঘুমাচ্ছেন। তাঁদের ডাকাডাকি করলে ওই রাতে হুলুস্থুল পড়ে যাবে, তাই বন্ধুদের মাথায় এক অভিনব বুদ্ধি এল৷ 

ভিডিওতে শোনা যাচ্ছে, তাঁদের মধ্যে এক বন্ধু ফোনে এক ‘ব্লিনকিট’ ডেলিভারি এজেন্টকে নিজেদের পরিস্থিতির কথা বোঝাচ্ছেন। ওই ডেলিভারি এজেন্টকে তাঁরা নিচু গলায় একের পর এক নির্দেশ দিচ্ছিলেন- ঠিক কোথায় চাবি রাখা আছে, কীভাবে সদর দরজা খুলে নিঃশব্দে ভেতরে ঢুকতে হবে এবং তাঁদের উদ্ধার করতে হবে।

কিছুক্ষণ পরেই দেখা যায়, সেই ডেলিভারি এজেন্ট এসেছেন। শুধু তাই নয়, সফলভাবে ঘরে ঢুকে বারান্দার দিকে এগিয়ে আসছেন। তাঁকে দেখামাত্রই হাসিতে ফেটে পড়েন মিহির ও তাঁর বন্ধুরা। এমন পরিস্থিতিতে তাঁরা নিজেরাও তখন অবাক।

ভিডিওটি দেখে নেটপাড়ায় উৎসাহের শেষ নেই। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “ভাবুন তো, যদি মাঝরাতে বাইরের লোককে ঘরে ঢুকতে দেখে বাবা-মা জেগে যেতেন, তবে কী হত!” অন্য এক জন ওই ডেলিভারি এজেন্টের ভূমিকা নিয়ে  প্রশংসা করে তাঁকেই ‘আসল নায়ক’ বলে অভিহিত করেছেন। দুশ্চিন্তার এক রাত কীভাবে উপস্থিত বুদ্ধির জোরে মজার স্মৃতি হয়ে রইল, এখন তা নিয়েই চর্চা চলছে সর্বত্র।