আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে অনশনকারী সোনম ওয়াংচুককে সরিয়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। যা নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, সারা দেশের শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সোচ্চার হওয়া কণ্ঠস্বরকে দমানোর চেষ্টা করছে মোদি সরকার। লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী 'এক্স' পোস্টে জানান, নরেন্দ্র মোদি সরকারের "মূল ভিত্তি" বা নীতি হল "অসত্য" ও "হিংসা"। গান্ধী বলেন, "অহিংস অনশনরত অবস্থায় সোনম ওয়াংচুকজিকে যন্তর মন্তর থেকে সরিয়ে দেওয়াটা ভুল।"
শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ওয়াংচুকের প্রতিবাদের বিষয়টি যুক্ত করে রাহুল গান্ধী বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষার ক্রমবর্ধমান খরচ এবং শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনা ভারতের ভবিষ্যতের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অন্যতম। #ChhatronKiGoonj (ছাত্রদের কণ্ঠস্বর) হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে তিনি লেখেন, "কোনও রকম বলপ্রয়োগই ভারতের শিক্ষার্থীদের এবং আমরা যারা তাদের ভালোবাসি ও তাদের ওপর আস্থা রাখি- এই বিষয়গুলো উত্থাপন করা থেকে বিরত রাখতে পারবে না।"
নিট পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস অনিয়ম এবং এই বিতর্কের জেরে শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে 'ককরোচ জনতা পার্টি'-র নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের সমর্থনে ২৮ জুন থেকে অনশন করছেন ওয়াংচুক। প্রতিবাদ আয়োজকরা জানিয়েছেন, ২০ জুলাই সংসদের উদ্দেশ্যে যে পদযাত্রার কর্মসূচি রয়েছে, তা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ ও দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশের কথা উল্লেখ করে শনিবার ভোরে দিল্লি পুলিশ ওয়াংচুককে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
দেরাদুনে 'ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ' (ছাত্রদের কণ্ঠস্বর) সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার ঠিক পরের দিনই রাহুল গান্ধী মোদি সরকারকে আক্রমণ করলেন। শুক্রবারের সমাবেশে তিনি ভারতের শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের দাবি জানিয়েছিলেন। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, কোনও রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করা উচিত নয় এবং বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সমস্যা মোকাবিলায় ব্যাপক রাজনৈতিক ঐকমত্যের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
সমাবেশে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন যে, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় প্রায় ৭.৫ কোটি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই সমস্যার মূলে রয়েছে একটি "দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থা" যার সঙ্গে কোচিং সেন্টার, পরীক্ষা কেন্দ্র, প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারক, পরিবহনকারী, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক-সহ একাধিক পক্ষ জড়িত। তিনি দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনেরও আহ্বান জানান। বর্তমান ব্যবস্থাকে তিনি সেকেলে এবং শিক্ষার্থীদের পরিবর্তে কেবল পরীক্ষার ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন।
গান্ধীর মতে, বর্তমানের পরীক্ষক ও সরকার-কেন্দ্রিক পদ্ধতির পরিবর্তে একটি শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। এই কাঠামোয় জি-ম্যাট -এর মতো আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষার আদলে নিরাপদ 'প্রশ্ন ব্যাঙ্ক' এবং প্রযুক্তিনির্ভর 'র্যান্ডমাইজড' প্রশ্নপত্রের ব্যবস্থা থাকা উচিত।
এর আগে শনিবার, দেরাদুনের জনসভার একটি ভিডিও শেয়ার করেন গান্ধী। সেখানে তিনি রিয়া কুমারীর বাবা রাজেশ কুমারের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের কথা উল্লেখ করেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের জেরে মে মাসে নিট-ইউজি পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর রিয়া আত্মহত্যা করেছিলেন।
গান্ধী এই ঘটনাকে কেবল একটি পরিবারের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাওয়া এক মর্মান্তিক ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যর্থতার কারণে যেসব শিক্ষার্থী প্রাণ হারায়, তাদের পেছনে পড়ে থাকেন এমন সব অভিভাবক- যাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও ত্যাগ ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে একেবারে 'গোড়া থেকে' নতুন করে সাজাতে হবে। এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে শিশুরা মানসিক চাপের ভারে পিষ্ট না হয়ে বরং নিরাপদ বোধ করবে এবং অভিভাবকরা তাঁদের ত্যাগের বিনিময়ে শোকের পরিবর্তে সার্থকতা খুঁজে পাবেন।
















