আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের মুজাফফরনগরে এক শিউরে ওঠার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। গত দুই বছর ধরে লাগাতার শ্বশুর কর্তৃক ধর্ষিত ও হেনস্থার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে এক চরম পদক্ষেপ নিলেন ২৩ বছর বয়সী এক তরুণী। নিজের সম্ভ্রম ও আত্মসম্মান রক্ষার্থে ওই তরুণী তাঁর ৬৭ বছর বয়সী শ্বশুরের গোপনাঙ্গ নেল কাটারের ব্লেড দিয়ে কেটে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বুধনা থানার অন্তর্গত সাফিপুর পট্টি এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই বৃদ্ধ জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত বৃদ্ধের নাম জাকির। ঘটনার পর রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে প্রথমে স্থানীয় কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাঁকে জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত এলাকায় পৌঁছায় পুলিশ এবং অভিযুক্ত তরুণী সৈয়দাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়। পুলিশের কাছে সৈয়দা ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী হরিয়ানায় রিকশা চালান এবং কাজের সূত্রে বছরের বেশিরভাগ সময় বাড়ির বাইরেই থাকেন। নিজের দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে তিনি ওই বাড়িতে শ্বশুরের সঙ্গেই থাকতেন। আর স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগেই গত দু'বছর ধরে তাঁর ওপর এই পাশবিক অত্যাচার চালানো হচ্ছিল।
তরুণীর দাবি, এই নির্মম অত্যাচারের কথা তিনি পাড়া-প্রতিবেশীদের একাধিকবার জানিয়েছিলেন এবং সাহায্য চেয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কেউই তাঁর কথাকে গুরুত্ব দিয়ে শোনেনি বা কেউ এগিয়ে আসেনি। এলাকার বাসিন্দারাও স্বীকার করেছেন যে, সৈয়দা মাঝেমধ্যেই নিজের যন্ত্রণার কথা বলতেন। নাজরা নামের এক প্রতিবেশী সংবাদমাধ্যমকে জানান, ওই পরিবারটি সাধারণত নিজেদের মধ্যেই গুটিয়ে থাকত, তাই চার দেওয়ালের ভেতর ঠিক কী নৃশংসতা চলত তা বাইরে থেকে বোঝা সম্ভব ছিল না। তবে মেয়েটি যে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন, তা তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন।
বুধনা এলাকার সার্কেল অফিসার গজেন্দ্র পাল সিং জানিয়েছেন, পুলিশের আপৎকালীন গাড়িতে (PRV) খবর আসে যে এক মহিলা ব্লেড দিয়ে তাঁর শ্বশুরের ওপর হামলা চালিয়েছেন। পুলিশ দ্রুত গিয়ে আহত বৃদ্ধকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে এবং তরুণীর বয়ান রেকর্ড করে। তবে পুলিশ আরও জানিয়েছে যে, এখনও পর্যন্ত কোনও পক্ষের তরফ থেকেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ জমা পড়লেই উপযুক্ত ধারায় মামলা রুজু করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আপাতত ঘটনার সবকটি দিক ও উৎস খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
















