আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণের জেরে ভারতের বর্ষার স্বাভাবিক ছন্দে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। তবে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা আশার আলো দেখিয়েছে। গবেষকদের দাবি, বায়ুদূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো গেলে ভারতের বহু দশক ধরে হারিয়ে যাওয়া বর্ষার বৃষ্টিপাত আবারও ফিরে আসতে পারে। ফলে কৃষি, জলসম্পদ এবং পরিবেশের উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, শিল্পাঞ্চল, যানবাহনের ধোঁয়া, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বিভিন্ন মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ড থেকে নির্গত সূক্ষ্ম কণা বা অ্যারোসোল বায়ুমণ্ডলে জমা হয়ে সূর্যালোকের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলে স্থলভাগ ও সমুদ্রের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে যায়, যা দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর শক্তি দুর্বল করে দেয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বর্ষার বৃষ্টিপাতের উপর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক দশকে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বর্ষার অনিয়মিত আচরণ, কোথাও অতিবৃষ্টি আবার কোথাও দীর্ঘ খরার অন্যতম কারণ এই বায়ুদূষণ। জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি বায়ুদূষণও বর্ষার ধরন বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, যদি আগামী বছরগুলিতে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তবে ভারতের বর্ষার বৃষ্টিপাত ধীরে ধীরে আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে। এতে কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধি, ভূগর্ভস্থ জলের পুনর্ভরণ এবং পানীয় জলের সংকট কমাতে উল্লেখযোগ্য সাহায্য মিলবে।
তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, বায়ুদূষণ কমানোর সঙ্গে সঙ্গে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অব্যাহত থাকলে শুধু বায়ুদূষণ কমালেই সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান হবে না। উভয় ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত নীতি গ্রহণ করা জরুরি।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, কয়লার ব্যবহার কমানো, বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রসার, শিল্পক্ষেত্রে নির্গমন নিয়ন্ত্রণ এবং সবুজায়ন বাড়ানোর মাধ্যমে বায়ুদূষণ অনেকটাই কমানো সম্ভব। এতে শুধু মানুষের স্বাস্থ্যই নয়, বরং ভারতের বর্ষার স্বাভাবিক চক্রও পুনরুদ্ধার হতে পারে।
এই গবেষণা নতুন করে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বায়ুদূষণের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ শুধু পরিবেশ রক্ষার জন্য নয়, দেশের কৃষি, অর্থনীতি এবং জল নিরাপত্তার ভবিষ্যতের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। বিজ্ঞানীদের আশা, সঠিক নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা গেলে আগামী কয়েক দশকে ভারতের বর্ষা আবারও তার হারানো শক্তি ফিরে পেতে পারে।
















