আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব জানিয়েছেন যে, রাজ্য সরকার বিধানসভার আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশনে 'অভিন্ন দেওয়ানি বিধি' বিল পেশ করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "শুধুমাত্র যাঁদের একটিমাত্র বিয়ে রয়েছে, তাঁদেরই রাজ্যে বসবাসের আইনি অধিকার থাকবে।" শুক্রবার কাটনি জেলায় একটি 'সন্দীপনি স্কুল'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী যাদব এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত এই আইনের লক্ষ্য হল রাজ্যের সব নাগরিকের জন্য একটি অভিন্ন আইনি কাঠামো নিশ্চিত করা।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "যখন একটি দেশ, একটি সংবিধান, একজন প্রধান এবং একটি পতাকা- তখন হিন্দু ও মুসলিমদের জন্য আলাদা আইন কেন থাকবে? সবার জন্য একটিই আইন থাকা উচিত। রাম যদি একটিমাত্র বিয়ে করতে পারেন, তবে রহিম কেন দু'টি, তিনটি বা চারটি বিয়ে করবেন? আমাদের মুসলিম বোনেরাও আমাদেরই বোন। প্রস্তাবিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধির আওতায়, শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি যিনি একটিমাত্র বিয়ে করেছেন, তাঁরই মধ্যপ্রদেশে বসবাসের আইনি অধিকার থাকবে।"

মুখ্যমন্ত্রী যাদব আরও বলেন যে, প্রস্তাবিত আইনটি একটি অভিন্ন আইনি ব্যবস্থা কার্যকর করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বর্তমান আইনি কাঠামোতে তাৎক্ষণিক 'তিন তালাক' প্রথার কোনও স্থান নেই।

মোহন যাদব বলেন, "সবার জন্য একটিই ব্যবস্থা থাকা উচিত। আলাদা আইন কেন থাকবে? কেউ যদি 'তালাক, তালাক, তালাক' বলেন, তবে তাঁকে জেলে পাঠানো হবে। তিন তালাকের যুগ শেষ হয়ে গিয়েছে। আইনত কেবল একটি বিয়েই স্বীকৃত হবে। আমরা সরকারের মাধ্যমে মধ্যপ্রদেশে এই আইনটি নিয়ে আসছি কারণ নাগরিকদের মধ্যে কোনও বৈষম্য থাকা উচিত নয়। এই দেশে আমরা সবাই ভারতমাতার সন্তান।"

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান যে, বিধানসভার বর্ষাকালীন অধিবেশনে 'অভিন্ন দেওয়ানি বিধি' বিল পেশ করার আগে জগদীশপুরের পরবর্তী বৈঠকে মন্ত্রিসভা এই প্রস্তাবটি বিবেচনা করবে।

মুখ্যমন্ত্রী যাদব বলেন, "আমরা আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশনে এই বিলটি পেশ করতে যাচ্ছি। বিধানসভায় বিলটি নিয়ে যাওয়ার আগে, আমরা ভোপালের জগদীশপুরে নির্ধারিত পরবর্তী মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি অনুমোদন করব। কংগ্রেস হিন্দু ও মুসলিমের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিষয়গুলো বিচার করে বিভাজন তৈরি করেছে।"

যাদবের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কংগ্রেস মুখপাত্র আব্বাস হাফিজ 'রাম' ও 'রহিম'-এর উল্লেখ করার বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান। তিনি বলেন, এই নাম দু'টি নিজ নিজ ধর্মে অত্যন্ত পবিত্র এবং রাজনৈতিক তুলনার জন্য এগুলোর ব্যবহার করা উচিত নয়।

হাফিজ বলেন, "আমি মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের নিন্দা জানাই। কারণ তিনি 'রাম' ও 'রহিম'-এর নাম ব্যবহার করেছেন। নিজ নিজ ধর্ম ও সম্প্রদায়ের কাছে এই নাম দু'টি অত্যন্ত পবিত্র। আমার মতে, উপমা হিসেবে এই নামগুলোর ব্যবহার মুখ্যমন্ত্রীর চিন্তাধারার নিম্নরুচিরই প্রতিফলন। তিনি যে পদে রয়েছেন, আমি তার সম্মান করি। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে কথা বলার সময় তিনি বিয়ের উদাহরণ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী কি আমাদের আদিবাসী সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেও একই কথা বলছেন? তিনি কি জানেন না যে, দেশের সংবিধান নির্দিষ্ট কিছু আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য বহুবিবাহের অনুমতি রয়েছে? তিনি কি তাদের অধিকারও কেড়ে নিতে চান?"

কংগ্রেস নেতা অভিযোগ করেন যে, রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য বিজেপি ইউসিসি-র নাম করে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে নিশানা করছে।

হাফিজ আরও বলেন, "বহুবিবাহ ভাল না খারাপ, কিংবা এর সুবিধা-অসুবিধা কী, সেসব নিয়ে আমি বিস্তারিত বিতর্কে যেতে চাই না। কিন্তু যখন ইউসিসি-র নামে একটি সম্প্রদায়কে নিশানা করা হয় অথচ অন্য একটি বিভাগকে এর আওতার বাইরে রাখা হয়, তখন নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন। যদি আপনারা সেই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে না পারেন বা দৃঢ় পদক্ষেপ করতে ব্যর্থ হন, তবে বুঝতে হবে আপনারা কেবল রাজনীতিই করছেন। ইউসিসি-র অধীনে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে- এমন উদাহরণ দেওয়া থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে আপনাদের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক এবং রাজনীতির বাইরে অন্য কিছু নয়।"