আজকাল ওয়েবডেস্ক: জুন মাসজুড়ে দুর্বল বর্ষার পর জুলাইয়ের শুরুতে টানা ৯ দিন দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বৃষ্টিপাত স্বস্তি ফিরিয়েছিল। তাপপ্রবাহ থেকে যেমন কিছুটা রেহাই মিলেছে, তেমনই কৃষিকাজ এবং জলাধারগুলিতেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর সতর্ক করে জানিয়েছে, জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে এল নিনো আরও শক্তিশালী হওয়ার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আবারও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।


পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়ছে। এই অবস্থাই এল নিনো পরিস্থিতিকে আরও জোরালো করছে। সাধারণত এল নিনোর প্রভাবে ভারতীয় মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে, কারণ এটি বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগর থেকে দেশের অভ্যন্তরে আর্দ্রতা প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে। ফলে বর্ষার সক্রিয়তা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।


জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে পশ্চিম, মধ্য ও পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর ফলে দেশের সামগ্রিক বৃষ্টির ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিভিন্ন জলাধারে জলস্তর বেড়েছে এবং খরিফ মরশুমের ফসল চাষেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কৃষকদের মধ্যে কিছুটা আশাবাদ তৈরি হলেও নতুন করে এল নিনোর সতর্কবার্তা সেই আশায় ধাক্কা দিতে পারে।


আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমানে ম্যাডেন-জুলিয়ান অসিলেশন গতিপ্রকৃতির উপরও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। এটি এমন এক বায়ুমণ্ডলীয় ব্যবস্থা, যা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। আগামী দিনে এটি এমন এক পর্যায়ে প্রবেশ করতে পারে, যা ভারতে বিস্তৃত বৃষ্টিপাতের পক্ষে অনুকূল হবে না। এর ফলে দেশের বিভিন্ন অংশে বর্ষার বিরতি বা 'ব্রেক মনসুন' পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


আগামী দুই সপ্তাহে পশ্চিম, দক্ষিণ এবং মধ্য ভারতের বেশ কিছু এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিশেষ করে মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং কেরল-এ বৃষ্টির পরিমাণ কম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং অসম-এর মতো রাজ্যগুলিতে তাপমাত্রা আবারও বাড়তে পারে এবং তীব্র গরম অনুভূত হতে পারে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এল নিনো আরও শক্তিশালী হয়, তাহলে বৃষ্টিনির্ভর কৃষিকাজের উপর তার সরাসরি প্রভাব পড়বে। খরিফ ফসলের বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে, পাশাপাশি জলসংকটের আশঙ্কাও বাড়তে পারে। যদিও সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে জলাধারগুলিতে জলস্তর কিছুটা বেড়েছে, তবে দীর্ঘ সময় বর্ষা দুর্বল থাকলে সেই পরিস্থিতি আবারও বদলে যেতে পারে।


আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পূর্বাভাস জারি করা হবে। কৃষক, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষকে আবহাওয়ার আপডেট নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জুলাইয়ের দ্বিতীয়ার্ধ এবং আগস্টের আবহাওয়াই বর্ষার ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

&t=1s