আজকাল ওয়েবডেস্ক: খোদ স্কুল চত্বরের পিছনের অংশ থেকে রমরমিয়ে চলছিল দেহব্যবসার আসর। উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনের কিষাণ নগর এক্সটেনশন এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গত ১৩ মে অ্যান্টি-হিউম্যান ট্রাফিকিং ইউনিট (AHTU) এবং ক্যান্টনমেন্ট থানার পুলিশ যৌথভাবে ওই এলাকায় একটি ঝটিকা অভিযান চালায়। এই তল্লাশিতে ঘটনাস্থল থেকে দু’জন পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিন তরুণীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। একটি সচল স্কুল প্রাঙ্গণের ভেতরেই এমন অনৈতিক কাজ দিনের পর দিন ধরে চলায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত দুই ব্যক্তির নাম আশিস কুমার পাণ্ডে (৪২) এবং জং বাহাদুর (৫০)। তারা দুজনেই মূলত রাজস্থানের জয়পুরের বাসিন্দা। দেরাদুনের সিনিয়র সুপারিন্টেনডেন্ট অফ পুলিশ (SSP)-এর কাছে প্রথমে এই বিষয়ে একটি গোপন খবর আসে। সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই পুলিশ ওই নির্দিষ্ট সম্পত্তিতে হানা দেয়। অভিযানের সময় ভবনের পিছনের অংশে এক ব্যক্তি এবং তিন তরুণীকে অত্যন্ত 'সন্দেহজনক অবস্থায়' হাতেনাতে ধরা হয়। তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ সেখান থেকে একটি সুইফট গাড়ি এবং বেশ কিছু আপত্তিকর সামগ্রী যেমন কন্ডোম, ওষুধ ও মদের বোতল উদ্ধার করেছে। এছাড়াও উদ্ধার হয়েছে পেন ড্রাইভ, মেমোরি কার্ড এবং একটি ডায়েরি, যাতে এই চক্রের আর্থিক লেনদেনের সমস্ত হিসাব লিখে রাখা হতো বলে পুলিশের দাবি।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ভিনরাজ্যের অসহায় মহিলাদের চাকরির টোপ দিয়ে দেরাদুনে নিয়ে আসা হতো। পরে তাদের আর্থিক অনটনের সুযোগ নিয়ে জোর করে ঠেলে দেওয়া হতো এই অন্ধকার জগতে। উদ্ধার হওয়া তিন তরুণী মীরঠ, মুজাফফরনগর এবং দিল্লির বাসিন্দা। তারা সকলেই কাজের খোঁজে দেরাদুনে এসেছিলেন। তবে পুলিশ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই মধুচক্রটি স্কুলের ক্লাসরুমের ভেতরে চলছিল না। আসলে গোটা সম্পত্তিটি দুটি আলাদা ভাগে বিভক্ত ছিল। সামনের অংশে নিয়মিত স্কুল চলত এবং পিছনের অংশটি আলাদাভাবে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। যদিও দুটি অংশেরই যাতায়াতের মূল প্রবেশদ্বারটি এক ছিল। তবে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনার সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষের সরাসরি কোনও যোগসূত্র খুঁজে পায়নি পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরেই গভীর রাতে ওই বাড়ির আশেপাশে অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা এবং সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করছিলেন তারা। এই নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ দানা বাঁধছিল, যার পরিণতিতেই শেষ পর্যন্ত পুলিশি অ্যাকশন হয়। অভিযানের পর পুলিশ আপাতত ওই বাড়ির পিছনের অংশটি সিল করে দিয়েছে। পাশাপাশি বাড়ির মালিকের ভূমিকা এবং এই চক্রের পিছনে আর কোনও বড় নেটওয়ার্ক কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে একজন এর আগেও একই ধরনের অপরাধে জেল খেটেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া এক তরুণীর ব্যাগ থেকে এইআইভি (HIV) চিকিৎসার একটি কার্ড পাওয়া গেছে। ওই তরুণী নিজেও অসুস্থতার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তবে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্ড উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। ইতিমধ্যেই উদ্ধার হওয়া সমস্ত তরুণীদের ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হয়েছে এবং সেই মেডিকেল রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ধৃতদের বিরুদ্ধে অনৈতিক পাচার (প্রতিরোধ) আইন, ১৯৫৬-এর প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা রুজু করে এই চক্রের শিকড় কতদূর ছড়িয়ে রয়েছে তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।















