আজকাল ওয়েবডেস্ক: বুধবার প্রকাশিত হয়েছে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই)-র দ্বাদশের পরীক্ষার ফল। ফলপ্রকাশের পরেই সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বহু পরীক্ষার্থীই পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জীববিজ্ঞান এবং গণিত-এর মতো বিষয়ে আশানুরূপ নম্বর পাননি। এ জন্য বোর্ডের 'অন-স্ক্রিন মার্কিং' বা ওএসএম ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরীক্ষার্থী থেকে অভিভাবক। নেটমাধ্যমে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে 'সিবিএসই রেজাল্ট বিতর্ক'। যা নিয়ে এ বার মুখ খুলল বোর্ড।
'ওএসএম' মূল্যায়ন পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে বিবৃতি জারি করেছে বোর্ড। বোর্ডের দাবি, পরীক্ষার খাতা দেখার প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং সুসংহত করার লক্ষ্যেই এই 'অন-স্ক্রিন মার্কিং' ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। অনলাইনে খাতা মূল্যায়নের নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তা নির্ভুল বলেই জানিয়েছে বোর্ড। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও বোর্ড স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, অন-স্ক্রিন মার্কিং সিস্টেমেও 'স্টেপওয়াইজ মার্কিং' বা ধাপে ধাপে নম্বর দেওয়ার পদ্ধতি আগের মতোই রয়েছে। উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আরও বেশি স্বচ্ছতা, ধারাবাহিকতা এবং নিরপেক্ষতা আনতেই এই নকশা তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পরীক্ষকেরা একটি নির্ধারিত আদর্শ মানদণ্ড মেনেই খাতা দেখছেন। যা সব অঞ্চলের পড়ুয়াদের সঠিক এবং সমানভাবে মূল্যায়ন সুনিশ্চিত করেছে।
তবে ফলাফল নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও তাঁদের সুযোগ দেবে বোর্ড। সিবিএসই-এর তরফে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রতি বছরের মতো এবারও খাতা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ থাকছে। যে সমস্ত পড়ুয়ারা দ্বাদশের পরীক্ষার ফল নিয়ে অসন্তুষ্ট, তাঁরা নিজেদের মূল্যায়িত উত্তরপত্রের কপির জন্য আবেদন করতে পারবেন। উত্তরপত্র হাতে পাওয়ার পর যদি নম্বরে কোনও গরমিল বা অসঙ্গতি চোখে পড়ে, তবে বোর্ডের নির্ধারিত নিয়ম মেনে সংশোধনের জন্য আবেদন করার পথও খোলা থাকছে। মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত রাখতেই এই বন্দোবস্ত বলে জানিয়েছে সিবিএসই।
চলতি বছরে দ্বাদশের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ১৭ ফেব্রুয়ারি। পরীক্ষা শেষ হয় ১০ এপ্রিল। এ বার মোট ১৭ লক্ষ ৮০ হাজার ৩৬৫ জন পরীক্ষার জন্য নাম নথিভুক্ত করেছিল। পরীক্ষা দিয়েছিল ১৬ লক্ষ ৯২ হাজার ৭৯৪ জন। পাশ করেছে ১৫ লক্ষ ৭ হাজার ১০৯ জন। এ বছর পাশের হার ৮৫.২০ শতাংশ। গত বছর ছিল ৮৮.৩৯ শতাংশ। অর্থাৎ এ বছর কিছুটা কমেছে পাশের হার। তবে এ বারের পরীক্ষাতেও ছেলেদের টেক্কা দিয়েছে মেয়েরা। মেয়েদের পাশের হার ৮৮.৮৬ শতাংশ। অন্য দিকে, ছেলেদের পাশের হার ৮২.১৩ শতাংশ। অর্থাৎ পাশের হারের ছেলেদের থেকে মেয়েদের ব্যবধান প্রায় ৬.৭৩ শতাংশ। রূপান্তরকামীদের পাশের হার ১০০ শতাংশ।
ফল ঘোষণার দিনই বোর্ডের তরফে জানিয়ে দেওয়া হল সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার দিন। চলতি বছর ১৫ জুলাই হবে আয়োজন করা হবে পরীক্ষার। বোর্ডের তরফে ২ জুন থেকে পরীক্ষার্থীদের নাম জমা নেওয়া হবে। স্কুলের সঙ্গে যোগাযোগ করে পড়ুয়াদের সমস্ত তথ্য জমা দিতে হবে। তবে, তথ্য জমা দেওয়ার সময় খুব মনোযোগের সঙ্গে আবেদনপত্র পূরণ করতে বলা হয়েছে। তবে সবাই এই পরীক্ষা দিতে পারবেন না। দ্বাদশে পরীক্ষায় যাঁরা উত্তীর্ণ অথচ একটি বিষয়ে নম্বর বৃদ্ধি করতে চান, তাঁরা পরীক্ষা দিতে পারবেন। তবে একটি বিষয়েই পরীক্ষায় বসতে পারবেন তাঁরা। যাঁরা কর্ম্পাটমেন্ট বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছেন তাঁরাও বসতে পারবেন এই পরীক্ষায়। যাঁদের গত বছর কর্ম্পাটমেন্ট রয়েছে, তাঁরাও দিতে পারবেন পরীক্ষা। বোর্ডের তরফে মোট তিনটি সুযোগ দেওয়া হয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার। তাই কর্ম্পাটমেন্ট বিভাগের পড়ুয়াদের জন্য এই সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষাটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।















