আজকাল ওয়েবডেস্ক: পরিত্যক্ত ঘর ভর্তি মুণ্ডু, কঙ্কাল, হাড়গোড়। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কঙ্কাল দেখেই রীতিমতো আঁতকে উঠেছে পুলিশ। অবশেষে সেগুলি উদ্ধার করে শুরু হয়েছে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, মহারাষ্ট্রের থানে জেলায়। বুধবার পুলিশ জানিয়েছে, গত ৩ জানুয়ারি দম্বিভলির সোনারপাড়া এলাকায় মাত্রে নগরে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে কঙ্কালের টুকরো দেখতে পান এক ব্যক্তি। তিনিই দ্রুত পুলিশে খবর পাঠান। ঘটনাস্থলে পৌঁছেই সেই ঘর থেকেই মানুষের মতো মু্ণ্ডু, কঙ্কাল, হাড়গোড়, চটি, কিছু জামাকাপড়, ব্রেসলেট, কয়েক টুকরো চুল, রক্তের দাগ লাগা মাটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া জিনিসের নমুনা সংগ্রহ করে মুম্বইয়ের সরকারি জেজে হাসপাতালে ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। মানপাড়া থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কেউ খুন করেছিল নাকি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

গত নভেম্বর এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে আরও একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। পিসি ও ভাইপোর মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছিল এক প্রৌঢ়ের। দু'জনের সম্পর্কের বিষয়ে জানতে পেরেছিলেন তিনি। এর জেরেই নিত্যদিন অশান্তি হত। পথের কাঁটা স্বামীকে চিরতরে সরাতে পিসি ও ভাইপো মিলে খুনের পরিকল্পনা করেন। অবশেষে নৃশংসভাবে খুন করেন তাঁকে। দেহ দশ মাস ধরে লুকিয়ে রাখার পরেও শেষরক্ষা হয়নি।

দশ মাস পর বাড়ির উঠোন থেকে উদ্ধার হয় ওই ব্যক্তির কঙ্কাল। দশ মাস আগে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল ওই ব্যক্তিকে। কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে খুন করার পর ব্যক্তির দেহ বাড়ির পিছনের জমিতে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল। তাঁকে খুনের অভিযোগে রবিবার স্ত্রী ও প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। পাশাপাশি ঘাতক স্ত্রী ও তার ভাইপোর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়টিও ফাঁস করেছিল পুলিশ। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছিল উত্তরপ্রদেশের কানপুরে। পুলিশি জেরায় লক্ষ্মী কয়েক মাস ধরেই জানিয়েছিলেন, দশ মাস আগে কাজের সূত্রে গুজরাটে গিয়েছিলেন শিববীর সিং (৫০)। তারপর আর বাড়ি ফিরে আসেননি। তাঁর মা সাবিত্রী দেবী বারবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু তখন থেকেই ছেলের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি সাবিত্রী দেবী। ফোনটি বন্ধ ছিল। ছেলের তরফে কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মা। 

এরপর সাবিত্রী দেবীর সন্দেহ গাঢ় হতে থাকে। দীর্ঘ কয়েক মাস পর গত ১৯ আগস্ট থানায় শিববীরের নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন তিনি। এরপর লক্ষ্মী ও তার ভাইপো অমিত সিংকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। দীর্ঘ জেরায় দুজনেই স্বীকার করেন, তাঁরা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। দু'জনে মিলেই শিববীরকে খুন করেন। শনিবার লক্ষ্মী ও অমিতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছিলেন, গত দশ মাস ধরেই খুনের ঘটনাটি লুকানোর জন্য নানা ফন্দি করেছিলেন দুই অভিযুক্ত। বিষয়টি চেপে রাখার জন্য নানা গল্প ফেঁদেছিলেন। অবশেষে টানা জেরায় দু'জনেই ভেঙে পড়েন। এবং একসঙ্গে খুনের ঘটনাটি স্বীকার করে নেন। জানা গেছে, মাদক মেশানো চা খাইয়ে শিববীরকে অজ্ঞান করেছিলেন স্ত্রী লক্ষ্মী। এরপর কুড়ুল দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে খুন করেন অমিত। 

শিববীরের মৃত্যু নিশ্চিত করতে এরপর ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করেন লক্ষ্মী। খুনের পর দেহ বাড়ির পিছনে জমিতে পুঁতে দিয়েছিলেন তাঁরা। দশ মাস পর সেই মাটি খুঁড়ে দেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। কঙ্কালের পাশাপাশি একটি লকেট পাওয়া গেছে। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, এই লকেটটি শিববীরের।