আজকাল ওয়েবডেস্ক: কর্ণাটকে বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে ২০২৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একদিনের সফরে এসে মোদির শিবমোগ্গা বিমানবন্দর উদ্বোধন করেছিলেন। সেই সফরকে ঘিরে বিজেপি তখন “ডাবল ইঞ্জিন সরকার” বজায় রাখার আহ্বানও জানিয়েছিল। তবে তিন বছর পরে প্রকাশ্যে আসা একটি আরটিআই উত্তরে জানা গেছে, ওই একদিনের অনুষ্ঠান ও সফরের জন্য সরকারি খরচ হয়েছিল প্রায় ৩৩ কোটিরও বেশি টাকা।
এই তথ্য সামনে এসেছে একটি আরটিআই আবেদনের মাধ্যমে। তথ্য অধিকার কর্মী মঞ্জুনাথ হিরেচৌট্টি, যিনি Lanchamuktha Karnataka–র সঙ্গে যুক্ত, ২০২৩ সালের মার্চ মাসে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর অবশেষে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি উত্তর পান, তাও Karnataka State Information Commission–এর নির্দেশের পরে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শিবমোগ্গা বিমানবন্দর উদ্বোধনের অনুষ্ঠানের জন্যই খরচ হয়েছিল ১৮.৮১ কোটি টাকা। এর মধ্যে অন্যতম বড় খরচ ছিল বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আনতে ১,৮০০টি বাস ভাড়া করা, যার জন্য ব্যয় হয় ৪.১১ কোটি টাকা। এছাড়াও প্রধান মঞ্চের জন্য জলরোধী জার্মান স্ট্রাকচার ট্রাস প্যান্ডেল, গ্রিন রুম, প্রদর্শনী স্টল এবং ফুলের সাজসজ্জার জন্য প্রায় ১.৮ কোটি টাকা খরচ করা হয়। এই সাজসজ্জা ছিল প্রধানমন্ত্রী, রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রীসহ অন্যান্য অতিথিদের জন্য।
উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিমানে বেলগাভিতে যান এবং সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে রোড শো'তে অংশ নেন। বিমান যাত্রার সম্পূর্ণ খরচের হিসাব প্রকাশ করা না হলেও আরটিআই নথি থেকে জানা যায়, সফরের ওই অংশে আরও ১৪.৩৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল। এর মধ্যেও মানুষের সমাগম ঘটাতে বাস ভাড়ার জন্য প্রায় ২.৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।
&t=21sসব মিলিয়ে মঞ্জুনাথ হিরেচৌট্টির দাবি, ওই একদিনের সফরে জনসাধারণের অর্থ থেকে মোট ৩৩.১৬ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। আরটিআই উত্তরে আরও জানা যায়, Public Works Department Karnataka এই কাজগুলির জন্য স্বাভাবিক টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি। বরং তারা Karnataka Transparency in Public Procurement Act–এর ধারা ৪(জি) ব্যবহার করে টেন্ডার প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের অব্যাহতি দেয়।
এই বিষয়ে মঞ্জুনাথ হিরেচৌট্টি বলেন, “জনগণের অর্থ কখনও নির্বাচনী প্রচারের উপকরণ হতে পারে না। নির্বাচনের ঠিক আগে উন্নয়নমূলক প্রকল্পকে রাজনৈতিক প্রচারের মঞ্চ বানানো উচিত নয়। দেশে নির্বাচনের আগে সরকারি ব্যয়ের উপর কোনও আইনি নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে করদাতাদের অর্থ দিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিলাসী অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।”
এদিকে, সেই সময় রাজ্যে বিজেপি সরকারের জনপথ দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন C. C. Patil। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এতদিন পরে ওই খরচের সঠিক পরিমাণ তাঁর মনে নেই।
প্রধানমন্ত্রীর সরকারি সফর ও নির্বাচনের সময়কাল ঘিরে খরচ নিয়ে এর আগেও বিতর্ক হয়েছে। ২০২৩ সালে The Wire এক প্রতিবেদনে দেখিয়েছিল কীভাবে নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজ্যে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি সফর ও প্রচার প্রায় একই সময়ে হচ্ছে। এছাড়া The Indian Express জানিয়েছিল, কর্ণাটকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর একদিনের সফরে স্থানীয় সংস্থাগুলির প্রায় ৫৬ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল।
এই নতুন আরটিআই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর আবারও প্রশ্ন উঠছে—নির্বাচনের আগে সরকারি প্রকল্প উদ্বোধনের মতো অনুষ্ঠান কি রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হয়ে উঠছে, এবং সেই খরচের বোঝা শেষ পর্যন্ত কি সাধারণ করদাতাদেরই বহন করতে হচ্ছে?
