আজকাল ওয়েবডেস্ক: এশিয়ার বৃহত্তম বস্তি হিসেবে পরিচিত মুম্বাইয়ের ধারাভির হাজার হাজার বাসিন্দা সোমবার এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হন। আদানি গোষ্ঠী এবং মহারাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে এই আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজপথ। অভিযোগ উঠেছে, ধারাভি পুনর্গঠন প্রকল্পের আড়ালে আদানি গোষ্ঠীকে অনৈতিক সুবিধা করে দিতে এক ‘রহস্যজনক’ ভূমিকা পালন করছে রাজ্য সরকার। পুলিশি কড়াকড়ি উপেক্ষা করেই ধারাভির কুম্ভরওয়াড়া থেকে মাটুঙ্গায় আদানির দপ্তর পর্যন্ত এই মিছিল এগিয়ে চলে। ‘ধারাভি বাঁচাও আন্দোলন’-এর ব্যানারে আন্দোলনকারীরা স্লোগান তোলেন— ‘আদানি হঠাও, ধারাভি বাঁচাও’।
এই আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিলেন কংগ্রেস সাংসদ বর্ষা গায়কোয়াড়। প্রকল্পটিকে একটি ‘বিরাট কেলেঙ্কারি’ আখ্যা দিয়ে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, আদানি গোষ্ঠীর স্বার্থসিদ্ধির জন্য ধারাভির প্রকৃত বাসিন্দাদের ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করার চক্রান্ত চলছে। তাঁর দাবি, বর্তমানে যে সমীক্ষা চালানো হচ্ছে তা নিয়মবহির্ভূত এবং স্থানীয়দের সাথে কোনও আলোচনা না করেই তাঁদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। গায়কোয়াড় প্রশ্ন তোলেন, ধারাভি প্রকল্পের দোহাই দিয়ে কেন মুম্বাইয়ের লবণাক্ত জলাভূমি (সল্ট প্যান), মালভানি বা দেওনারের মতো অত্যন্ত মূল্যবান জমিগুলো আদানির হাতে তুলে দেওয়ার তোড়জোড় চলছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি ও গৌতম আদানির ‘অশুভ আঁতাত’-এর ফলেই মহাযুতি সরকার বারবার নিয়ম পরিবর্তন করছে বলে তিনি তোপ দাগেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি অত্যন্ত স্পষ্ট। তাঁরা জানিয়েছেন, ধারাভির প্রতিটি বাসিন্দাকে—সে তিনি সরকারি হিসেবে যোগ্য হোন বা না হোন—ধারাভির ভেতরেই ৫০০ বর্গফুটের স্থায়ী বাড়ি দিতে হবে। এছাড়া বর্তমান বসতবাড়ি এবং দোকান বা গুদামের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তাঁরা। জোর করে ধারাভির বাইরে অন্য কোথাও বাসিন্দাদের পাঠিয়ে দেওয়ার যেকোনও প্রচেষ্টাকে তাঁরা রুখে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সাংসদ গায়কোয়াড় অবশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁরা উন্নয়নের বিরোধী নন, কিন্তু বর্তমান মডেল এবং অস্বচ্ছ সমীক্ষা প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধী। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, প্রায় ৯৬ শতাংশ বাসিন্দাকে অযোগ্য সাব্যস্ত করে তাঁদের ঘরছাড়া করার ছক কষা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো হচ্ছে এবং এলাকায় দালালচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ধারাভিকে তার বাসিন্দাদের নিজস্ব সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, তাঁদের মতামত না নিয়ে বাইরের কেউ তাঁদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না। আবর্জনা ফেলার জায়গায় তাঁদের পুনর্বাসন দেওয়ার পরিকল্পনাকে ধিক্কার জানিয়ে তিনি শপথ নেন যে, যতক্ষণ না বাসিন্দারা তাঁদের নায্য অধিকার পাচ্ছেন, এই লড়াই চলবে।















