আজকাল ওয়েবডেস্ক: শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেন। ইরানের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি এই হামলাগুলোকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি হুমকি হিসেবে অভিহিত করেন।

‘এক্স’ (X) প্ল্যাটফর্মে করা একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদি লিখেছেন, “প্রেসিডেন্ট ড. মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বললাম এবং তাঁকে ঈদ ও নওরোজের শুভেচ্ছা জানালাম। আমরা আশা প্রকাশ করেছি যে, এই উৎসবের মরসুম পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি বয়ে আনবে।”

মোদি আরও যোগ করেন, “এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোতে হামলার নিন্দা জানালাম; এই হামলাগুলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটায়। সমুদ্রপথে চলাচলের স্বাধীনতার সুরক্ষা এবং নৌ-চলাচলের পথগুলো উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখা নিশ্চিত করার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করলাম। ইরানে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়ে ইরানের অব্যাহত সহায়তার প্রশংসা করলাম।”

প্রধানমন্ত্রী সমুদ্রপথে চলাচলের স্বাধীনতা ও সুরক্ষার গুরুত্ব ফের তুলে ধরেন। তিনি হরমুজ প্রণালীতে তৈরি অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে নৌ-চলাচলের পথগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী হল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোর বা ‘চকপয়েন্ট’, যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস বাণিজ্যের এক-পঞ্চমাংশ সম্পন্ন হয়। তবে ইরান এই প্রণালী আপাতত বন্ধ করেছে। যার ফলে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে।

গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েল যৌথ হামলা চালায়। ফলে পশ্চিম এশিয়ায় শুরু হয় সংঘাত। তারপর থেকে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির এটাই ছিল দ্বিতীয় ফোনালাপ।

১২ই মার্চ, প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের মধ্যে ফোনে কথা হয়েছিল। সেই সময়ে আঞ্চলিক সংঘাত নিয়ে তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা এবং পণ্য ও জ্বালানির নির্বিঘ্ন চলাচল ভারতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা এবং পণ্য ও জ্বালানির নির্বিঘ্ন চলাচলের প্রয়োজনীয়তা ভারতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি এবং সংলাপ ও কূটনীতির আহ্বান জানিয়েছি।”

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে ভারতের অবস্থান
ভারত বরাবরই “সংলাপ ও কূটনীতির” সমর্থক এবং পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের দ্রুত অবসানের আহ্বান জানিয়ে আসছে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর-  ইরান, ইজরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব, ওমান এবং কাতারের নেতাদের সঙ্গে কথায় আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান খুঁজে বের করার উপর জোর দেন।

উপসাগর জুড়ে ইরানের হামলার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি, ভারত হরমুজ প্রণালী দিয়ে গ্যাস ও তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও জোরদার করেছে — যা প্রতিশোধমূলক হামলার পর প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল।