আজকাল ওয়েবডেস্ক: গুজরাটের গির সোমনাথ জেলা। সেখানেই রবিবার 'শৌর্য যাত্রা'র নেতৃত্ব দিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমনাথ মন্দির রক্ষার্থে প্রাণ বলিদান করেছিলেন যাঁরা, তাঁদের সম্মানার্থে এই শৌর্য যাত্রার আয়োজন। শোভাযাত্রায় বীরত্ব ও আত্মবলিদানের প্রতীক হিসেবে ১০৮টি ঘোড়ার শোভাযাত্রা হয়। ওই শোভাযাত্রায় দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। 

রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোমনাথ মন্দির পরিদর্শন করেন এবং শৌর্য যাত্রা শেষ করার পর শিবের কাছে প্রার্থনা করেন। মন্দির পরিদর্শনের আগে তিনি বীর হামিরজি গোহিল এবং সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। ১২৯৯ খ্রিস্টাব্দে জাফর খানের সেনাবাহিনীর হাত থেকে সোমনাথ মন্দির রক্ষা করার সময় গোহিল নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।

সোমনাথ মন্দির পরিদর্শনের আগে, প্রধানমন্ত্রী ১০২৬ সালে সোমনাথ মন্দিরে আক্রমণের পর থেকে ১,০০০ বছরের অখণ্ড বিশ্বাসের স্মরণে শৌর্য যাত্রায় অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংঘভি তাঁর সঙ্গে যোগ দিয়েছেন শৌর্য যাত্রায় এবং পরবর্তী অনুষ্ঠান সূচিতে।

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, ‘শৌর্যযাত্রা’ হল সোমনাথ স্বাভিমান পর্বের অংশ হিসেবে আয়োজিত একটি প্রতীকী শোভাযাত্রা। যাত্রার আগে, গুজরাট পুলিশ মাউন্টেড ইউনিটের ১০৮টি ঘোড়া এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এসেছিল।২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত  গজনীর মাহমুদের সোমনাথ মন্দিরে প্রথম আক্রমণের ১,০০০ বছর পূর্তিতে আয়োজিত হয়েছে অনুষ্ঠিত সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব। 

শনিবার (১০ জানুয়ারী, ২০২৬) হাজার হাজার ভক্ত সোমনাথ মন্দির কমপ্লেক্সে ভিড় জমান, শীতের ঠান্ডা উপেক্ষা করে মধ্যরাত পেরিয়েও বাইরে ছিলেন, উপভোগ করছিলেন মন্দিরের সাজসজ্জা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সোমনাথ স্বাভিমান পর্বের অংশ হিসেবে মন্দির পরিদর্শনের কিছুক্ষণ পরেই সন্ধ্যায় ভিড় উপচে পড়ে। রবিবারের আগে, শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোমনাথ মন্দিরে 'ওমকার মন্ত্র' জপে অংশগ্রহণ করেন, 'দর্শন' করেন এবং ৩,০০০ ড্রোনের সমাবেশের একটি বিশাল ড্রোন শোও দেখেন।

উদযাপন প্রসঙ্গে গোটা শহরের সাজসজ্জাও চোখে পড়ার মতো। শহরজুড়ে বড় বড় ব্যানারে উৎসবের নাম এবং 'অখণ্ড সোমনাথ, অখণ্ড ভারত'-এর মতো স্লোগান এবং 'প্রহার সে পুনরুত্থান কা সাক্ষী, ম্যায় স্বয়ম্ভু সোমনাথ হু'-এর মতো নানা লাইন লেখা তাতে। শঙ্খ সার্কেলের কাছে অলঙ্কৃত প্রবেশপথটি ফুল দিয়ে সজ্জিত ।