আজকাল ওয়েবডেস্ক: এক হাজারেরও বেশি আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী প্রস্তুত রয়েছে। ভারতে অনুপ্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য এই আত্মঘাতী বাহিনী  তাকে চাপ দিচ্ছে। আত্মঘাতী হামলাকারীদের সংখ্যা প্রকাশ করলে দুনিয়াজুড়ে শোরগোল পড়ে যাবে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারের একটি অডিও রেকর্ডিং সামনে এসেছে। সেখানেই এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন পাক মদতপুষ্ট এই জঙ্গি নেতা।

নিজের ভাষায় মাসপদ আজহারকে বোলতে শোনা যাচ্ছে যে, "এই আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীরা একজন নয়, দু'জন নয়, ১০০ জন নয়, এমনকী ১,০০০ জনও নয়। যদি আমি পুরো সংখ্যাটা বলে দিই, তাহলে আগামীকাল বিশ্বের সংবাদ মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়ে যাবে।"

অডিওতে জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহার 'শহাদত'-এর কথা তুলে বলেন, তাঁর সংগঠনের জঙ্গিরা নাকি কোনও পার্থিব সুবিধা চায় না, শুধু  'মৃত্যুর পরের জয়'-ই তাদের লক্ষ্য। তবে, ওই অডিও রেকর্ডিংটির তারিখ এবং সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ভারত-বিরোধী বাগাড়ম্বরের দীর্ঘ ইতিহাস
জঙ্গি নেতা মাসুজ আজহার বছরের পর বছর ধরে ভারতের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বিবৃতি দিয়ে আসছে। ২০০১ সালের সংসদ হামলা এবং ২০০৮ সালের মুম্বই হামলা-সহ বেশ কয়েকটি বড় সন্ত্রাসবাদী হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

গত বছর ২২শে এপ্রিল পাহালগাঁও হামলার জবাবে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে 'অপরেশন সিঁদুর' অভিযান চালায় ভারতীয় বাহিনী। পাকিস্তানের অভ্যন্তরে জইশ-ই-মহম্মদের ঘাঁটি (যার মধ্যে বাহাওয়ালপুরে অবস্থিত জঙ্গি গোষ্ঠীর সদর দফতরও অন্তর্ভুক্ত)  লক্ষ্য করে হামলা চালায় ভারতীয় বাহিনী। ওই হামলায় আজহারের বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয় নিহত হন বলে জানা গিয়েছে।

ভারতীয় বাহিনীর হামলায় নিহত উমর মহম্মদ দিল্লি বিস্ফোরণের সন্দেহভাজন বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। উমর পাকিস্তান-ভিত্তিক জইশ-ই-মহম্মদের সদস্য ছিল। ২০১৯ সাল থেকে মাসুদ আজহারকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। সেই বছর বাহাওয়ালপুরে তার আস্তানায় অজ্ঞাত হামলাকারীদের চালানো এক শক্তিশালী বিস্ফোরণে তিনি বেঁচে যান। তারপর থেকে তিনি মূলত লোকচক্ষুর আড়ালেই রয়েছেন।

তবে অপরেশন  সিঁদুরের বদলায় কোমর বাঁধছে আজহারও। ফলে প্রকাশিত অডিও রেকর্ডিংয়ে আজহারের হুঁশিয়ারি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।