আজকাল ওয়েবডেস্ক: বৃহন্মুম্বাই পৌরসভা নির্বাচনের আগে, মহারাষ্ট্রের ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) এবং একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনার জোট 'মহাজুতি' রবিবার বহু প্রতীক্ষিত নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে। এতে মহিলাদের জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা করে সুদমুক্ত ঋণ, বস্তিমুক্ত মুম্বই এবং অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করার জন্য একটি এআই টুলের মতো বেশ কয়েকটি নতুন উদ্যোগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশের সময় মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ, উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে, রামদাস আটওয়ালে, বিনোদ তাওড়ে, অমিত সাতাম এবং আশীষ শেলার-সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন।

ইশতেহার প্রকাশের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবিশ। তাঁর দাবি, এই ইশতেহারটি মুম্বইবাসীদের জন্য উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে মুম্বাইবাসীর দৈনন্দিন জীবন অনেক সহজ হবে। উদ্ধব ঠাকরের প্রতি কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "ঠাকরের মতো নয়, মহাজুটি হিন্দুত্বের পাশাপাশি উন্নয়নকেও অগ্রাধিকার দেয়।"

দেবেন্দ্র ফড়নবিশের কথায়, “কিছু লোক শুধু মারাঠি মানুষের জন্য বাড়ির কথা বলে, কিন্তু আমরা তা করে দেখাচ্ছি। আমরা মুম্বইবাসীদের দৈনন্দিন জীবন সহজ করার চেষ্টা করেছি। উদ্ধব ঠাকরে উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন না। আমরা হিন্দুত্ব নিয়ে কোনও আপস করি না, তবে আমরা ৯৫ শতাংশই উন্নয়ন নিয়ে কথা বলি।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “বিএমসি-র মাধ্যমে মহিলাদের পাঁচ লক্ষ টাকা সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা আমাদের। আমরা সর্বোচ্চ সংখ্যক বাংলাদেশিকে ফেরৎ পাঠিয়েছি। এছাড়াও, আমরা বম্বে আইআইটি-র সাহায্যে একটি এআই টুল তৈরি করছি। বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গাদের মতো অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করতে এই টুল সহায়ক হবে।”

ফড়নবিস আরও বলেন যে, মহাজুতি সরকার জন্মসনদ কেলেঙ্কারি সম্পর্কে অবগত। অভিযোগ যে, অবৈধ অভিবাসীরা জন্মসনদ পেয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা একটি ডিটেনশন সেন্টারের জন্য জমি পেয়েছি। আমরা কেলেঙ্কারির হোতাকে খুঁজে বার করতে কাজ করছি।”

ইশতেহার সম্পর্কে শিন্ডে বলেন, “এই ইশতেহারটিই বলে দিচ্ছে যে, আমরা সাড়ে তিন বছরে মুম্বইয়ের জন্য কী করেছি। আমরা উন্নয়নের গতি বাড়াতে চাই। আমরা মুম্বই ছেড়ে যাওয়া মারাঠি মানুষদের ফিরিয়ে আনতে চাই।” তিনি আরও বলেন, “আমরা পুরোনো পাগড়ি পদ্ধতির ভবনগুলো উন্নত করতে চাই। বস্তিমুক্ত মুম্বই আমাদের পরিকল্পনা। যারা আগে বিএমসি-র দায়িত্বে ছিলেন, তারা কিছুই করেননি।”

রাজ্যের সাসক জোটের এই ইশতেহার নিয়েই ঘোর শঙ্কায় বাণিজ্য নগরীর বস্তিবাসীরা। মুন্বইতেই রয়েছে এশিয়ার বৃহত্তম ধারাভির বস্তি। ফলে বস্তিমুক্ত মুম্বই গড়ার প্রতিশ্রুতি কীভাবে পূরণ হবে সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু হয়েছে।  

উল্লেখ্য, পাঁচ হাজার ৬৯ কোটি টাকা বরাতে ২০২২ সালে এশিয়ার বৃহত্তম বস্তির ধারাভির উন্নয়নের ভার দেওয়া হয়েছিল আদানি গোষ্ঠীকে।