আজকাল ওয়েবডেস্ক: আইআইটি কানপুরে ফের গবেষক ছাত্রের চরম পদক্ষেপ। হস্টেলের ব্যালকনি থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। সেখানেই স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে থাকতেন। পড়ুয়ার মৃত্যুতে ফের শোরগোল এলাকায়।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে আইআইটি কানপুরে। পুলিশ জানিয়েছে, ২৫ বছর বয়সি মৃত তরুণের নাম, রামস্বরূপ ঈশ্বরম। তিনি রাজস্থানের চুরু জেলার বাসিন্দা ছিলেন। আইআইটি কানপুরের হস্টেল প্রাঙ্গণ থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আইআইটি কানপুরের ক্যাম্পাসে হস্টেলের সাততলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। ২০২৩ সালে জুলাই মাসে আইআইটি কানপুরে পিএইচডি শুরু করেন তিনি। আর্থ সায়েন্স ডিপার্টমেন্টে পিএইচডি করছিলেন তিনি। ক্যাম্পাসে নিউ এসবিআরএ বিল্ডিংয়ে স্ত্রী ও তিন বছরের কন্যাসন্তানকে নিয়ে থাকতেন তরুণ। তাঁর স্ত্রী তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। 

প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, গত দু'বছর ধরে রামস্বরূপ স্কিৎজোফ্রেনিয়ার রোগী ছিলেন। ডিপ্রেশন ও অ্যাংজাইটিতেও ভুগতেন। আইআইটি কানপুরেই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতেন। তাঁর বন্ধুরাও অসুস্থতার খবর জানতেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কাউন্সিলিংয়ের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল তাঁর। কিন্তু তার আগেই ব্যালকনি থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হন। তড়িঘড়ি করে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। 

গত তিন সপ্তাহের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার আইআইটি কানপুরে এক পড়ুয়া আত্মঘাতী হলেন। এর আগে গত বছর ২৯ ডিসেম্বর ২৬ বছর বয়সি জয় সিং মীনা নামের আরেক পড়ুয়া আত্মঘাতী হন। তিনিও রাজস্থানের বাসিন্দা ছিলেন। বিটেক ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র ছিলেন। হস্টেলের ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

গত কয়েক বছরের মধ্যে বিভিন্ন আইআইটিতে পড়ুয়াদের আত্মহত্যার ঘটনা বেড়েই চলেছে। গত দু'বছরে ২৩টি আইআইটিতে ৩০ জন পড়ুয়া আত্মঘাতী হয়েছেন। শুধুমাত্র আইআইটি কানপুরে ন'জন পড়ুয়া আত্মঘাতী হয়েছেন। 

গত বছর অক্টোবরেও এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। আইআইটি কানপুরের হস্টেল থেকে উদ্ধার হয়েছিল গবেষক ছাত্রীর নিথর দেহ। বৃহস্পতিবার হস্টেলের একটি ঘরের দরজা ভেঙে ২৮ বছর বয়সি ছাত্রীর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর ঘর থেকে সুইসাইড নোট পাওয়া যায়। উৎসবের আবহে ঘটনাটি ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় আইআইটি কানপুরের অভ্যন্তরে। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, গবেষক ছাত্রী আইআইটি কানপুরে আর্থ সায়েন্সে পিএইচডি করছিলেন। দিল্লি ইউনিভার্সিটি থেকে বিএসসি এবং ঝাঁসির বুন্দেলখণ্ড ইউনিভার্সিটি থেকে এমএসসি করেছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার মধ্যরাতে ওই মেধাবী ছাত্রী আত্মহত্যা করেন। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত হস্টেলে তাঁর ঘরের দরজা বন্ধ ছিল। তা দেখেই দুশ্চিন্তা শুরু হয় হস্টেলের অন্যান্য পড়ুয়ার। 

কয়েকজন পড়ুয়া মিলে থানায় খবর পাঠান। ঘটনাস্থলে পৌঁছে হস্টেলের ওই ঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকে পুলিশ। সেখান থেকে ছাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া গিয়েছিল। সেখানে ছাত্রী লিখেছিলেন, নিজের মৃত্যুর জন্য তিনি নিজেই দায়ী।