আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের 'সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন' শহরের তকমা পাওয়ার পরেই বিষাক্ত পানীয় জলের কেলেঙ্কারি ফাঁস। চলতি বছরে জানুয়ারি মাসেও মৃত্যুমিছিল জারি। ফের বিষাক্ত পানীয় জল খেয়ে ইন্দোরে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত এই শহরে মোট ২৫ জনের মৃত্যু হল বিষাক্ত পানীয় জল খেয়ে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রদেশের সেই ভাগীরথপুরায় ৫১ বছর বয়সি হিমানি গৈকওয়াড় নামের এক প্রৌঢ়ের মৃত্যু হয়েছে। গত ২২ ডিসেম্বর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যু হয়েছে তাঁর। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রৌঢ়ের কিডনির সমস্যা ছিল। কিন্তু ডায়রিয়া ও ঘনঘন বমির সমস্যা নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। ক্রমেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়।
হিমানি পেশায় ই-রিক্সা চালক ছিলেন। পরিবারে একাই তিনি উপার্জন করতেন। তাঁর চার মেয়ে রয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ২১ টি পরিবার ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ পেয়েছে। এখনও ন'জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সাতজন ভর্তি রয়েছেন আইসিইউতে। বিষাক্ত পানীয় জল খেয়ে যাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, তাঁদের চিকিৎসার জন্য প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচ করেছে রাজ্য সরকার।
গত বছরের শেষ থেকেই ইন্দোরে বিষাক্ত পানীয় জল খেয়েই মৃত্যুমিছিল শুরু হয়। জানুয়ারির শুরুতেই ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। হাসপাতালে এখনও চিকিৎসাধীন ছিলেন ২০০ জন। ঘনঘন বমি, পেট ব্যথা, পেট খারাপের মতো উপসর্গ ছিল সকলের। বিষাক্ত পানীয় জল খাওয়ার পরেই বিপত্তি বাড়ে। অসুস্থ হয়ে পড়েন ন'হাজারের বেশি বাসিন্দা।
এরপর গুজরাটের গান্ধীনগরেও বিষাক্ত জলের অভিযোগ উঠেছে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারির শুরুতে গান্ধীনগরের শতাধিক বাসিন্দা টাইফয়েডে আক্রান্ত হন। গান্ধীনগর সিভিল হাসপাতালে ১০৪ জন চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসাধীন রোগীদের তালিকায় শিশুরাও ছিল।
গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সংঘভি ইতিমধ্যেই গান্ধীনগর সিভিল হাসপাতালে গিয়ে রোগীদের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি জানান, ২২ জন বিশেষজ্ঞ ও ডাক্তারদের নিয়ে একটি টিম তৈরি করে, রোগীদের দেখভাল করা হচ্ছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে এই টিম।
