আজকাল ওয়েবডেস্ক: শ্রমিক বিক্ষোভঙকে কেন্দ্র করে সোমবার সকাল থেকেই উত্তাল হয়ে ওঠে নয়ডা। ঘটনায় হস্তক্ষেপ করতে হয় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকেও।
তিনি আশ্বাস দেন, শ্রমিকদের যে দাবি রয়েছে তা বিবেচনা করে দেখা হবে। এরপর, তিনি একটি বিশেষ কমিটি তৈরির নির্দেশ দেন। জানা গিয়েছে, সোমবার মধ্যরাতে সব পক্ষের মধ্যে একটি বৈঠক হয়েছে।
সেখানে উপস্থিত ছিলেন যোগী আদিত্যনাথ গঠিত কমিটির সদস্যরা এবং শ্রমিক প্রতিনিধিরা। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই বৈঠকে যোগ দেয় বলে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, হরিয়ানা সরকার সম্প্রতি শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩৫ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেই নয়ডার শ্রমিকরা প্রশ্ন তুলেছিলেন, তাদের কেন কম মজুরিতে কাজ করতে হবে?
শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁরা যে সংস্থাগুলিতে কাজ করেন সেগুলি কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি অনুযায়ী বেতন দিচ্ছে না। কম মজুরি ও খারাপ কর্মপরিবেশের জেরেই তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন।
এক শ্রমিকের বক্তব্য, প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা কাজ করেও শ্রমিকরা মাত্র ১১,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত উপার্জন করেন, যা দিয়ে সংসার চালানো অত্যন্ত কঠিন।
আরেকজন অভিযোগ করেন, মজুরি দেওয়ার ক্ষেত্রেও একাধিক অনিয়ম রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের দিয়ে ডবল শিফটের কাজ করিয়ে নেওয়া হলেও এক শিফটেরই বেতন দেওয়া হয়।
অন্য আর এক শ্রমিকের দাবি, ‘সব কিছুর দাম বাড়ছে, কিন্তু আমাদের বেতন ১১-১২ হাজার টাকার মধ্যেই আটকে আছে। অন্তত ২০-২৫ হাজার টাকা করা উচিত।’
এর পাশাপাশি, ওভারটাইমের জন্য বাড়তে মজুরি, সপ্তাহে নির্দিষ্ট একদিন ছুটির দাবি নিয়েও বিক্ষোভ দেখিয়েছেন তাঁরা। এদিকে উত্তরপ্রদেশ সরকার শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি খারিজ করে জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই ১ এপ্রিল মজুরি বাড়িয়েছে।
সরকারের নির্ধারিত অন্তর্বর্তী হারে গৌতম বুদ্ধ নগর এবং গাজিয়াবাদ জেলায় আনস্কিলড শ্রমিকদের জন্য ১৩,৬৯০ টাকা, সেমিস্কিলড শ্রমিকদের জন্য ১৫,০৫৯ টাকা এবং স্কিলড শ্রমিকদের জন্য ১৬,৮৬৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার রাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং খুব সামান্য বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। তবে সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে গঠিত একটি কমিটি শ্রমিকদের আশ্বাস দিয়েছে যে তাদের স্বার্থ রক্ষা করা হবে এবং সমস্ত সংস্থায় শ্রমিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।
এদিকে, মুজফরনগরে এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে যোগী আদিত্যনাথ বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান। উস্কানি বা প্ররোচনায় যাতে তারা পা না দেন সেই বিষয়েও সতর্ক করেন।
তিনি বলেন, সরকার ন্যূনতম ভাতা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। অন্যদিকে, অখিলেশ যাদব নেতৃত্বাধীন সমাজবাদী পার্টি বিজেপি সরকারের কড়া সমালোচনা করেছে।
অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেন, শিল্পপতিদের পক্ষ নেওয়া একতরফা নীতির ফলেই এই অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিজেপি শিল্পপতিদের সঙ্গে রয়েছে। অন্যদিকে, নয়ডায় যেটাকে ‘শিল্পপতিদের এটিএম’ বলা হচ্ছে, তার ফলেই শ্রমিকদের অবহেলা করা হচ্ছে।’
















