বীরেন ভট্টাচার্য, নয়া দিল্লি: লোকসভায় নিরাপত্তা বলয় বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। লোকসভায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করা দুই যুবক সাগর শর্মা এবং মনোরঞ্জন ডিকে পাস দিয়েছিলেন বিজেপি সাংসদ প্রতাপ সিমহা। তাঁর বয়ান রেকর্ড করার পরিকল্পনা রয়েছে দিল্লি পুলিশের। শনিবার ষষ্ঠ অভিযুক্ত মহেশ কুমাওয়াতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরমধ্যেই বেশ কিছু সামগ্রি হাতে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তারমধ্যে রয়েছে পুড়ে যাওয়া মোবাইল ফোন।
রাজস্থানের নাগাউর থেকে পোড়া এবং ভাঙা মোবাইলের অংশ উদ্ধার করেছে দিল্লি পুলিশ। সেই মোবাইল ফোন গ্রেপ্তার হওয়া ললিত ঝায়ের বলে মনে করা হচ্ছে। ললিত ঝাকে সঙ্গে নিয়ে শনিবার রাজস্থানের নাগাউরে যান দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রের খবর নাগউরে মহেশ কুমাওয়াতের সঙ্গে থাকত ললিত ঝা। এই সমস্ত সামগ্রি উদ্ধারের পরেই পুলিশ মনে করছে, এগুলি সবই তথ্য প্রমাণ লোপাট করার চেষ্টা। সেই কারণেই, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণ লোপাটের ধারা যুক্ত করা হয়েছে। সংসদে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার ঘটনায় যাতে প্রযুক্তিগত কোনও প্রমাণ না থাকে, তা নিশ্চিত করার জন্য ললিত ঝা এবং মহেশ কুমাওয়াত মোবাইল ফোন নষ্ট করেছে বলে মনে করছে পুলিশ। তদন্তকারীদের অনুমান জয়পুর থেকে দিল্লি আসার পথে ফোন নষ্ট করা হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, লখনউ থেকে বিশেষ বরাত দিয়ে ২ জোড়া জুতো তৈরি করানো হয়েছিল। কারণ, অভিযুক্তরা জানত, সংসদে ঢোকার সময়, জুতো পরীক্ষা করা হয় না। ফলে, জুতোর ভিতরেই গ্যাসের ক্যান লুকিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।
এদিকে, গত বুধবারের ঘটনার পর থেকেই সামনে এসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, গত ৪৫ দিন ধরে ফাঁকা পড়ে রয়েছে সংসদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা যুগ্ম সচিব পদটি। এই পদে আগে ছিলেন ১৯৯৭ ব্যাচের উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের আইপিএস অফিসার রঘুবীর লাল। যদিও গত নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তাঁকে নিজের রাজ্য উত্তরপ্রদেশের এডিজি( আইনশৃঙ্খলা) করে পাঠানো হয়। তখন থেকে অস্থায়ীভাবে পদের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ডাইরেক্টর পদ মর্দাযার এক আধিকারিক। এছাড়াও, সংসদের নিরাপত্তা কর্মীদের ৪০ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে বলেও সূত্রের খবর। বর্তমানে নিরাপত্তা কর্মীর সংখ্যা মাত্র ২৩০ জন। এমনকী, লোকসভা কক্ষে যখন সাগর শর্মা এবং মনোরঞ্জন ডি গ্যাস ধোঁয়া স্প্রে করে, সেই সময় সেখানে থাকা বিপদসঙ্কেত কোনও কাজ করেনি বলে সূত্রের খবর। নতুন সংসদ ভবনে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার করা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারও রয়েছে। যদিও প্রযুক্তির ব্যবহার পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মীর বিকল্প হতে পারে না বলে দাবি নিরাপত্তা আধিকারিকদের। এছাড়াও সংসদের ভবনের বার্ষিক বাজেট ৩০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে।
















