আজকাল ওয়েবডেস্ক: তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোরে বছর ১০ একের এক নাবালিকার যৌন নির্যাতন ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ বার রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়। সোমবার উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে এ নিয়ে একটি বৈঠকে বসেন তিনি। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ প্রশাসনকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, মহিলাদের এবং শিশুদের বিরুদ্ধে হওয়া যে কোনও যৌন অপরাধের ক্ষেত্রে যেন অবিলম্বে মামলা দায়ের করে দ্রুত তদন্ত শেষ করা হয়। একইসঙ্গে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও নিশ্চিত করতে বলেন বিজয়।
সচিবালয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, যাঁরা এই ধরনের জঘন্য অপরাধের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি পদক্ষেপ করতে হবে। এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ যাতে সমাজে আর না ঘটে, তার জন্য অপরাধীদের কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা হবে যা অন্যদের জন্য একটি কড়া সতর্কবার্তা বা 'ডিটারেন্ট' হিসেবে কাজ করবে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে এই ধরনের মামলার বিচারপ্রক্রিয়া বা ট্রায়াল দ্রুত সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হয়। একইসঙ্গে, নারীসুরক্ষায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন রুখতে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরির ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি।
রাজ্যের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নারী নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য সচিব এম সাইকুমার, স্বরাষ্ট্র সচিব কে মণিবাষন, অ্যাডভোকেট জেনারেল বিজয় নারায়ণ, সমাজকল্যাণ ও নারী অধিকার দপ্তরের সচিব মরিয়ম পল্লবী বলদেব এবং পুলিশ মহানির্দেশক সন্দীপ রায় রাঠোর-সহ অন্যান্য শীর্ষস্তরের আধিকারিকরা।
প্রসঙ্গত, চলতি মাসের শুরুতেই তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী থাকল দেশ। জনপ্রিয় অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে প্রবেশ করা বিজয়ের নেতৃত্বে টিভিকে বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪টির মধ্যে ১০৮টি আসন জিতে চমকপ্রদ ফল করেছে। এই ফলাফল শুধু একটি দলের জয় নয়, বরং প্রায় ছয় দশকের পুরনো দ্রাবিড় রাজনীতির দ্বৈরথ ভেঙে দিয়েছে।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে ডিএমকে। দলের প্রধান ও মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন নিজের কেন্দ্র কোলাথুর থেকেই হেরে গিয়েছেন। অন্যদিকে এআইডিএমকে অনেক পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল, তাদের ঝুলিতে মাত্র ৪৭টি আসন।
এই বিপুল সাফল্যের পরই সরকার গঠনের প্রস্তুতিতে নেমেছেন বিজয়। চেন্নাইয়ের পট্টিনামপাক্কমে তাঁর বাসভবনে নবনির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করছেন তিনি। সূত্রের খবর, আগামী ৭ মে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন এবং তাঁর সঙ্গে প্রায় ৯ জন মন্ত্রীও শপথ নিতে পারেন।















