আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে লোকসভায় দু’টি বিল পেশ করা হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল ‘এক দেশ এক ভোট’ আইন প্রণয়ন’। সেই বিল নিয়ে আলোচনার উদ্দ্যেশ্যে সংসদের যৌথ কমিটি (জেপিসি) গঠন করা হয়। তার আগে এই আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বে আট সদস্যের কমিটি গঠন করেছিল। ওই কমিটির ১৮ হাজার পাতার রিপোর্ট নিয়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে পর্যালোচনা করছে জেপিসি।
রিপোর্টে সুপারিশ করা হয়েছিল যে, প্রথমে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন সমন্বিত ভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এর পর ১০০ দিনের মধ্যে পঞ্চায়েত ও পুরসভার ভোটের আয়োজন করা হবে। কেন্দ্রের দাবি ছিল, এই নীতি কার্যকর হলে দেশের প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে। জিডিপির হার বাড়বে ১.৬ শতাংশ। এই দাবি করেছিলেন জেপিসি চেয়ারম্যান প্রেম প্রসাদ চৌধুরি। কিন্তু এবারের বাদল অধিবেশন এক দেশ, এক ভোট সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল পেশ করার সম্ভাবনা কম। কারণ জেপিসি এখনও সব রাজ্যের বিধানসভায় গিয়ে মতামত চাইছে এই বিষয়ে। বর্তমানে ‘এক দেশ এক নির্বাচন’ চালু করতে হলে সংবিধানে মোট ১৮টি সংশোধন করতে হবে। যার অনেকগুলিতেই রাজ্য বিধানসভার সম্মতির প্রয়োজন।
এর আগে জাতীয় নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রকে জানিয়েছিল যে, দেশের লোকসভায় ও সব রাজ্যে বিধানসভা ভোট একসঙ্গে হলে প্রতি ১৫ বছরে ১০ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে শুধুমাত্র ইভিএমের জন্য। একটি ইভিএমের আয়ু সাধারণত ১৫ বছর হয়। অর্থাৎ, একটি ইভিএম সেট তিনটি নির্বাচনে ব্যবহার করা যেতে পারে।
কেন্দ্র কেন এই আইন প্রণয়নে এত তৎপর? কী কী সুবিধা হতে পারে যদি এই আইন চালু হয়ে যায় দেশে-
• ঘন ঘন নির্বাচনের আর্থিক বোঝা ব্যাপক, বিশেষ করে ভারতের মতো বিশাল একটি দেশের জন্য। নির্বাচনী আয়োজন ও নিরাপত্তার জন্য যা খরচ হয় তা অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজে খরচ করা যাবে।
• একই সঙ্গে দেশজুড়ে লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনের ফলে সরকারগুলির পরিচালন প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল হবে। বার বার নির্বাচনের সময় সরকারি কাজ ব্যাহত হয় অনেক দিনের জন্য। ঘন ঘন নির্বাচনের ফলে আদর্শ আচরণবিধি (এমসিসি) একাধিকবার প্রয়োগ করতে হয়, যা নীতি বাস্তবায়ন ও শাসনকার্যে বিলম্ব ঘটায়।
• ধারাবাহিক নির্বাচনী চক্র সরকারগুলোকে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নমূলক লক্ষ্যের চেয়ে স্বল্পমেয়াদী জনমোহিনী পদক্ষেপকে অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য করে। এক দেশ এক ভোটের ফলে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা সম্ভব হবে।
• পৃথক নির্বাচন পরিচালনায় বিপুল আর্থিক ও প্রশাসনিক ব্যয় হয়। ‘এক দেশ এক ভোট’ মাধ্যমে বিপুল ব্যয় হ্রাস সম্ভব হবে। জেপিসি চেয়ারম্যান দাবি করেছেন, দেশের প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে। জিডিপির হার বাড়বে ১.৬ শতাংশ।
• ঘন ঘন নির্বাচন সংসদীয় কার্যক্রমকে রাজনৈতিক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করে, যার ফলে কৃষি ও শ্রম সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলি পাশ করাতে গিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে অচলাবস্থার মুখোমুখি হতে হয়।
• ঘন ঘন নির্বাচন সাম্প্রদায়িকতা, জাতিভেদ প্রথা, দুর্নীতি ও ভোট কেনাবেচা বাড়িয়ে তোলে। একই সঙ্গে একাধিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে এই সমস্যাগুলি কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
• ‘এক দেশ এক ভোট’-এর সমালোচকদের যুক্তি, এটি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে দুর্বল করে দিতে পারে। কিন্তু পূর্ব দৃষ্টান্ত থেকে বোঝা যায় যে একসঙ্গে নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে। জাতীয় ও রাজ্য নির্বাচন একসঙ্গে করা হলে তা বিভিন্ন স্তরের সরকারের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে পারে, যা নীতি বাস্তবায়নকে ত্বরান্বিত করবে।















