আজকাল ওয়েবডেস্ক: বসার জায়গা নিয়ে সামান্য ঝগড়া, আর তার পরিণতিতে এক ব্যক্তিকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠল তাঁরই প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। গুজরাটের কচ্ছ জেলার গান্ধীনধাম শহরে এই নৃশংস ঘটনায় স্তম্ভিত স্থানীয়রা। মৃত ব্যক্তির নাম করসন মহেশ্বরী (৫০)।
পুলিশ জানিয়েছে, গত রবিবার বাড়ির বাইরের বারান্দায় বসা নিয়ে করসনবাবুর সঙ্গে চার প্রতিবেশীর বচসা শুরু হয়। তুচ্ছ সেই বিবাদ মুহূর্তের মধ্যে চরমে পৌঁছায়। অভিযোগ, চারজন মিলে ওই প্রৌঢ়কে তাড়া করে তাঁর নিজের বাড়ির শৌচাগারের ভিতর ঘিরে ফেলে। সেখানে তাঁর গায়ে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ভুজের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, কিন্তু শরীর বাজেভাবে পুড়ে যাওয়ায় সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযুক্তদের নাম প্রেমিলাবেন নরেশভাই মাতঙ্গ, অঞ্জুবেন হরেশভাই মাতঙ্গ এবং চিমনরাম গোমারাম মাড়ওয়ারি। তবে চতুর্থ অভিযুক্ত মঞ্জুবেন মহেশ্বরী এখনও পলাতক। পুলিশ তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।
নিহতের ভাই হীরাভাই মহেশ্বরীর অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার খুনের ধারা-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। সামান্য বিষয় থেকে কীভাবে এমন মর্মান্তিক কাণ্ড ঘটল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
অন্যদিকে, মুম্বইয়ের মলাড স্টেশনে কিছুদিন আগেই এক হাড়হিম ঘটনা ঘটে৷ ট্রেন থেকে নামা নিয়ে সামান্য বচসা, আর তার জেরেই এক কলেজ অধ্যাপককে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় তোলপাড় গোটা রাজ্য। মৃত অলোক কুমার সিং (৩৩) ভিলে পার্লের এনএম কলেজের অধ্যাপক ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার অলোকের স্ত্রীর জন্মদিন ছিল। রাতে দুজনে মিলে বাইরে খেতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু এক লহমায় সব শেষ হয়ে গেল।
ঘটনায় ইতিমধ্যেই শহরজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তবে পুলিশি তৎপরতায় ১২ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত ওঙ্কার শিন্ডেকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত যুবক পেশায় এক কারখানার শ্রমিক। ভারতীয় ন্যায় সংবিধান অনুযায়ী মামলা রুজু করে তাকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
বোরিভালি জিআরপি সূত্রে খবর, শনিবার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিট নাগাদ মলাড স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ঘটনাটি ঘটে। কাজ সেরে অলোক ট্রেন ধরে কান্দিভালি যাচ্ছিলেন।
ট্রেন থেকে নামার সময় ওঙ্কারের সঙ্গে তাঁর কথা কাটাকাটি হয়। অভিযোগ, সেই সামান্য বিবাদ থেকেই মেজাজ হারিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে অলোককে কোপাতে শুরু করে অভিযুক্ত। রক্তাক্ত অবস্থায় প্ল্যাটফর্মেই লুটিয়ে পড়েন ওই অধ্যাপক। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ভিড়ের সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত পালিয়ে গেলেও সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাকে কুরার এলাকা থেকে পাকড়াও করে পুলিশ। তবে খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রটি এখনও উদ্ধার হয়নি।
অন্যদিকে তদন্তে জানা গিয়েছে, মৃত অলোকের বাবা অনিল কুমার সিং কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নিরাপত্তারক্ষী। প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের প্রস্তুতিতে তিনি যখন দিল্লিতে ছিলেন, তখনই ছেলের মৃত্যুসংবাদ পান। উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা অনিল দীর্ঘকাল ধরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর নিরাপত্তা বলয়ে কর্মরত।
