আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা-মুক্ত ট্রানজিট সুবিধা ঘোষণা করল জার্মানি। এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ আরও সহজ হবে ভারতীয়দের ক্ষেত্রে।
ভারত ও জার্মানির মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সোমবার প্রকাশিত ভারত-জার্মানি যৌথ বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক মার্জ ১২–১৩ জানুয়ারি সোমবার ভারত সফরে এসেছেন। উল্লেখ্য, দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম ভারত সফর এবং ফেডারেল চ্যান্সেলর হিসেবে এশিয়ায় প্রথম সফর।
ভিসা-মুক্ত ট্রানজিট সুবিধার অর্থ হল, ভারতীয় নাগরিকরা যদি অন্য কোনও দেশে যাওয়ার পথে জার্মানির বিমানবন্দর ব্যবহার করেন, তবে তাঁদের আর আলাদা করে ট্রানজিট ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে না।
এর ফলে যাত্রা হবে আরও দ্রুত, সহজ এবং ঝামেলাহীন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ঘোষণার জন্য চ্যান্সেলর মার্জকে ধন্যবাদ জানান। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, এই পদক্ষেপ ভারতীয় নাগরিকদের ভ্রমণ সহজ করার পাশাপাশি দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরও গভীর করবে।
এদিন বিশ্বের বর্তমান অবস্থা, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা নিয়ে আলোচনা হয় দুই পক্ষের মধ্যে। জানা গিয়েছে, শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নতি করে জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে ভারতে ক্যাম্পাস খোলার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মোদি। জানা গিয়েছে, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও দুই দেশ একে অপরকে সহযোগিতা করবে।
এমনকী, ইউক্রেন এবং গাজা প্রসঙ্গেও দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির কারণে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক চাপের মধ্যে যখন বার্লিন ও নয়াদিল্লি ক্রমবর্ধমান অনিশ্চিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির মুখোমুখি, ঠিক সেই সময়েই এই সফরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
দু’দিনের সফরে ভারতে এসেছেন মার্জ। সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জার্মান চ্যান্সেলরকে গুজরাটের আহমেদাবাদে স্বাগত জানিয়েছেন। এরপর মার্জ যাবেন দক্ষিণ ভারতের বেঙ্গালুরুতে।
এদিন ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি উৎসবে অংশগ্রহণ করেন মার্জ। পাশাপাশি, স্বাধীনতা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত সবরমতী আশ্রম পরিদর্শন করেন তিনি। এখানেই মহাত্মা গান্ধী দীর্ঘদিন বসবাস করেছিলেন।
জার্মান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বার্লিনের দৃষ্টিতে নয়াদিল্লি বর্তমানে কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেই গুরুত্বকে স্পষ্ট করে তুলে ধরতেই মার্জের প্রথম এশিয়া সফর হিসেবে ভারতকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
ভারতের সঙ্গে ইউরোপের যোগাযোগও জোরদার হচ্ছে। আগামী ২৬ জানুয়ারি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
