আজকাল ওয়েবডেস্ক: মদ্যপান করতে বারণ করেছে বাবা। সহ্য হয়নি ছেলের। বাবা প্রতিবাদ করায় বাবাকে কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল খোদ ছেলের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, বাবাকে মারার পর শান্ত মাথায় দোকানে গিয়ে বিরিয়ানি খেয়ে এসে ঘুমিয়ে পড়ল ছেলে! সোমবার রাতে ছত্তিসগড়ের অম্বিকাপুরে এই শিউরে ওঠা ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত ব্যক্তির নাম পরশ কেরকেট্টা (৫০)। পুলিশ জানিয়েছে, পরশবাবু অম্বিকাপুরের বহেরাপাড়ায় একা থাকতেন। তাঁর ২৫ বছরের ছেলে প্রভাস ওরফে লেডা থাকতেন কাছেই একটি ভাড়া বাড়িতে। স্থানীয় সূত্রের খবর, ছেলের মদের নেশা নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে প্রায়শই অশান্তি হতো। সোমবার রাতেও সেই একই কারণে দুর্ঘটনা ঘটে।
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, সোমবার রাত ১১টা নাগাদ মদ্যপ অবস্থায় বাবার বাড়িতে যান প্রভাস। সেখানে তাঁর নেশা করা নিয়ে বাবা বকাবকি শুরু করলে দুজনের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। রাগের মাথায় হাতের কাছে থাকা একটি কুড়ুল দিয়ে বাবার মাথায় কোপ মারতে শুরু করেন প্রভাস। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বাবার। এরপর রক্তমাখা দেহটি টেনে নিয়ে গিয়ে বাড়ির পাশের একটি ছোট জলের ট্যাঙ্কে ফেলে দেন তিনি।
এখানেই শেষ নয়, বাবাকে মারার পর বিন্দুমাত্র অনুশোচনা দেখা যায়নি প্রভাসের মধ্যে। পুলিশ জানতে পেরেছে, দেহ লোপাট করে প্রভাস সটান এক দোকানে গিয়ে বিরিয়ানি খান। তারপর বাড়ি ফিরে আরামে ঘুমিয়ে পড়েন। মঙ্গলবার সকালে প্রতিবেশীরা পরশবাবুকে দেখতে না পেয়ে পুলিশে খবর দেন। এরপরই জলের ট্যাঙ্ক থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়।
পুলিশের কাছে অভিযুক্ত যুবকের আজব দাবি, "ভুল করে রাগের মাথায়" তিনি বাবাকে মেরে ফেলেছেন। মণিপুর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। দিন কয়েক আগেই লখনউতে এক তরুণ তাঁর বাবাকে খুন করে ড্রামে ভরে রেখেছিলেন। সেই ঘটনাতেও ধৃত দাবি করেছিলেন যে ‘ভুল করে’ খুন হয়ে গিয়েছে। অম্বিকাপুরের ঘটনা যেন সেই একই নৃশংসতার ছবি ফিরিয়ে আনল।
